
(৮ মাস আগে) ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫, সোমবার, ১০:২২ পূর্বাহ্ন
বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৩ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল বলেছেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার জনগণের ভোটাধিকার হরণ করে জবাবদিহিতার সংস্কৃতি ধ্বংস করেছে। জনগণ ভোট দিতে না পারায় সরকারও জনগণের ভালো-মন্দ দেখার দায় অনুভব করেনি। আগামীতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফার ভিত্তিতেই একটি নতুন, আধুনিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে।রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) বিকেলে নগরীর খালিশপুর থানাধীন ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের আনসার উদ্দিন সড়কে এলাকাবাসীর সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, “শেখ হাসিনা পালানোর বহু আগেই আমাদের নেতা তারেক রহমান রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা ঘোষণা করেছিলেন। তিনি আগেই বুঝতে পেরেছিলেন, স্বৈরাচারী কায়দায় দেশ চালিয়ে বেশিদিন ক্ষমতায় থাকা যায় না। এই ৩১ দফা শুধু নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নয়, এটি আগামীর বাংলাদেশের একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা।”বিগত সরকারের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, “গত দুটি সরকারের আমলে দেশের মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। ভোটাধিকার না থাকায় জনগণের সঙ্গে সরকারের কোনো সম্পর্ক ছিল না, ছিল না কোনো জবাবদিহিতা। এর ফলেই তারা বেপরোয়া হয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করেছে।”আগামী দিনের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে বিএনপির এই নেতা বলেন, “বিএনপি ক্ষমতায় গেলে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ ও জীবনমান উন্নয়নে কাজ করবে। প্রতিটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে, যাতে স্বল্পমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পাওয়া যায়। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চালু করা হবে হেলথ কার্ড, যার মাধ্যমে মানুষ বিনা খরচে চিকিৎসা সেবা পাবে।”বেকারত্ব দূরীকরণ ও শিল্পায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য ঘরে ঘরে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। প্রথম ধাপেই এক কোটি বেকার যুবককে বেকার ভাতা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে খুলনার বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানাগুলো আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন করে পুনরায় চালু করা হবে, যাতে এ অঞ্চলের মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত হয়।” তিনি আরও বলেন, “গত ১৫ বছরে আমাদের অসংখ্য নেতাকর্মী গুম-খুনের শিকার হয়েছেন, অনেকে কারাগারে ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুবরণ করেছেন। তাদের সেই আত্মত্যাগ বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে অর্জিত এই নতুন বাংলাদেশে আর কোনো অন্যায়-অবিচার হতে দেওয়া হবে না।” এ সময় তিনি এলাকাভিত্তিক সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলা, মাদক নির্মূল এবং সুন্দর পরিবেশ বজায় রাখার জন্য এলাকাবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। প্রতিটি মহল্লায় জনগণের সমস্যা সরাসরি শুনে তা সমাধানে কাজ করার আশ্বাসও দেন তিনি। মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন খুলনা মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সেখ সাদী, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক চৌধুরী শফিকুল ইসলাম হোসেন, যুবদলের আহ্বায়ক আব্দুল আজিজ সুমন, ইউনিট কমিটির সভাপতি আব্দুল মোতালেব, নেতৃবৃন্দ আব্দুস সাত্তার, জাকির হোসেন, ইউনুস আলী, মো. ফারুক, ডা. হেলাল (বন বিভাগ, খুলনা), এস এম শহিদুল ইসলাম, হায়দার আলী, শেখ নুরুল ইসলাম, আব্দুস সাত্তারসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং এলাকার সাধারণ জনগণ।