banglahour

পরিকল্পিত হামলায় রিকশাচালক নিহত, নিরাপত্তাহীনতায় পরিবার

অপরাধ | সোহেল চৌধুরী কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

(৯ মাস আগে) ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫, সোমবার, ৮:৩৫ অপরাহ্ন

কিশোরগঞ্জে পূর্বশত্রুতা ও মামলা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে রিকশাচালক আঃ ছালামকে পরিকল্পিতভাবে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে নিহতের পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী।

সোমবার দুপুরে কিশোরগঞ্জ প্রেসক্লাবের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিহতের ছেলে ও মামলার বাদী মো. মতিউর রহমান। এ সময় নিহতের স্বজন ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে মো. মতিউর রহমান বলেন, “আমার বাবা আঃ ছালাম ছিলেন একজন সাধারণ রিকশাচালক। এলাকার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির অন্যায় ও অপকর্মের প্রতিবাদ করায় তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়, এটি একটি নির্মম হত্যাকাণ্ড।” তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় কিশোরগঞ্জ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত নং-১ মামলাটি আমলে নিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, ঘটনার কয়েক মাস আগে অভিযুক্তদের একজন নিহতের পুত্রবধূকে ধর্ষণের চেষ্টা করলে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলার জেরে আসামিরা ক্ষুব্ধ হয়ে আঃ ছালাম ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ পোষণ করে এবং একাধিকবার প্রাণনাশের হুমকি দেয়।

মামলার এজাহার ও সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৫ নভেম্বর (মঙ্গলবার) বিকাল আনুমানিক ৫টার পর কিশোরগঞ্জ শহরের লতিবাবাদ দক্ষিণপাড়া এলাকার হিমাগার রোডে, হারুনের বাড়ির উত্তর পাশে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত আঃ ছালাম কিশোরগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি এক রোগীর জন্য খাবার নিয়ে সাইকেলযোগে যাওয়ার পথে পূর্বপরিকল্পিতভাবে কয়েকজন ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার পথরোধ করে। এরপর তাকে ঘিরে ধরে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, হামলাকারীরা ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে আঃ ছালামকে টেনে-হেঁচড়ে হাইওয়ে রোডে নিয়ে গিয়ে চলন্ত গাড়ির নিচে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে তার আর্তচিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে আসামিরা তাকে রাস্তায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

পরে স্থানীয়দের সহায়তায় গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে কিশোরগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। স্বজনদের দাবি, সেখানে নেওয়ার পথে তিনি হামলার বিস্তারিত বিবরণ দেন। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন ২৬ নভেম্বর ভোরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

মামলায় মো. শহীদ মিয়া (৫০), মো. সাদেক মিয়া (২২), মো. সোহেল মিয়া (৩৫), মো. সুজন মিয়া (৪০), মো. এরশাদ মিয়া (৩৫) ও উজ্জল মিয়া (৪৫)-সহ মোট ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৪–৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

ঘটনার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেফতার না করায় পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। নিহতের পরিবার দাবি করেছে, দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার না হলে তারা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হবেন।

সংবাদ সম্মেলন থেকে প্রশাসনের প্রতি অবিলম্বে আসামিদের গ্রেফতার, মামলার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানানো হয়।
 

উপদেষ্টা সম্পাদকঃ হোসনে আরা বেগম
নির্বাহী সম্পাদকঃ মাইনুল ইসলাম
ফোন: +৮৮০১৬৭৪০৬২০২৩
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম
ফোন: +৮৮ ০১৭ ১২৭৯ ৮৪৪৯
অফিস: ৩৯২, ডি আই টি রোড (বাংলাদেশ টেলিভিশনের বিপরীতে),পশ্চিম রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।
যোগাযোগ: তাহিরুল ইসলাম, ০১৭৭৮০০৪৭০০ contact@banglahour.com
অফিসিয়াল মেইলঃ banglahour@gmail.com
banglahour
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল