
(৮ মাস আগে) ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫, সোমবার, ৮:৪৩ অপরাহ্ন
সর্বশেষ আপডেট: ১০:৪৩ অপরাহ্ন
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তফশিল ঘোষণার আগেই ঘরে ঘরে প্রচারণা চালিয়েছেন সিলেট বিএনপির প্রার্থীরা। দল ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচির প্রচারের মধ্য দিয়ে ধানের শীষের পক্ষে মাঠে নামেন তারা। পরে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন ঘোষণা হলে জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচটিতে প্রার্থী চূড়ান্ত করে বিএনপি।
মনোনয়ন ঘোষণার পর প্রায় এক মাস সময় হাতে পেয়ে প্রার্থীরা প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ চালান। ধানের শীষের দাওয়াত পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি এলাকাভিত্তিক সমস্যা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন তারা। ৩১ দফা নিয়ে কয়েক মাস ধরে মাঠে থাকার ফলে ব্যাপক সাড়া মিলছে বলে দাবি প্রার্থীদের।
মনোনয়ন দৌড়ে থাকা অনেক নেতা পরে প্রার্থীদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে মাঠে নামেন। প্রার্থীরা জানিয়েছেন, মনোনয়নপত্র দাখিলের পর চূড়ান্ত প্রচারণা শুরু হবে। তখন বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামবেন। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী গতকাল থেকে ব্যানার ও ফেস্টুন অপসারণের কাজও শুরু করা হয়েছে বলে জানান তারা।
মর্যাদাপূর্ণ সিলেট-১ (সিলেট সিটি করপোরেশন ও সদর) আসনে বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। ২০১৮ সালেও তিনি এই আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন এবং এরপর থেকে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। সিলেট বিএনপির রাজনীতিতে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছেন। তফশিল ঘোষণার আগেই সিটি করপোরেশন ও সদর এলাকার প্রতিটি ওয়ার্ডে ঘুরে ঘুরে গণসংযোগ করেন তিনি। প্রচারণাকালে সিলেটের উন্নয়ন নিয়ে মানুষের ভাবনা জানার চেষ্টা করছেন মুক্তাদির। নগর বিএনপির সব অংশের নেতাকর্মী তার পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে রয়েছেন।
সিলেট-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক এমপি ও কেন্দ্রীয় নেতা নিখোঁজ এম ইলিয়াস আলীর সহধর্মিণী তাহসিনা রুশদীর লুনা। ২০১২ সালে ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার পর বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগরে বিএনপির সাংগঠনিক হাল ধরেন লুনা। ২০১৮ সালে নানা প্রতিবন্ধকতায় প্রার্থী হতে না পারলেও এবার দল তার ওপর আস্থা রেখেছে।
প্রার্থী ঘোষণার আগেই ৩১ দফা নিয়ে মাঠে সক্রিয় ছিলেন লুনা। মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে ধানের শীষের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করেন তিনি। তফশিলের আগেই পুরো নির্বাচনী এলাকা এক দফা চষে বেড়ান, সঙ্গে ছিলেন তার ছেলে ব্যারিস্টার আবরার। স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা তার পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে রয়েছেন।
সিলেট-৩ আসনে মনোনয়ন নিয়ে নাটকীয়তা দেখা গেছে। প্রচারণায় এগিয়ে থাকা কেন্দ্রীয় নেতা ব্যারিস্টার এম এ সালাম ও জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরীকে পেছনে ফেলে মনোনয়ন পান যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এমএম মালিক। প্রার্থী ঘোষণার আগে এই আসনে একের পর এক শোডাউনে সরব ছিলেন মনোনয়নপ্রত্যাশীরা। বর্তমানে প্রচারণায় কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও ধানের শীষের পক্ষে সালাম ও কাইয়ূম অনুসারীরা এলাকায় সক্রিয় রয়েছেন।
সিলেট-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। ‘ভোটের ম্যাজিকম্যান’ হিসেবে পরিচিত এই নেতা প্রার্থী ঘোষণার পর দ্রুত মাঠে নামেন। নিজ বাসায় যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের নিয়ে ধারাবাহিক বৈঠক করেন। জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ এলাকায় ঘরে ঘরে গণসংযোগ চালিয়ে নির্বাচনী জোয়ার তোলার চেষ্টা করছেন তিনি। তার দাবি, দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা তার পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নেমেছেন।
সিলেট-৫ আসনে এখনো বিএনপি প্রার্থী ঘোষণা করেনি। শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামীকে সমর্থন দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি মামুনুর রশীদ (চাকসু মামুন) ও যুগ্ম সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান পাপলু। মামুন নিয়মিত সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এলাকায় গণসংযোগ চালাচ্ছেন।
সিলেট-৬ আসনে একাধিক প্রার্থীর সক্রিয় প্রচারণার পর বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী। প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই তিনি মাঠে সক্রিয়। তার দাবি, নির্বাচনী এলাকার এমন কোনো গ্রাম নেই যেখানে তিনি যাননি। স্থানীয় জনগণ বিএনপির এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে এবং ভোটের অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানান তিনি।