
(১০ মাস আগে) ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫, শুক্রবার, ৬:৩৪ অপরাহ্ন
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় পারিবারিক কলহের জেরে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের পরিকল্পিত হামলায় এক তরুণ প্রকৌশলী নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্বজনদের দাবি, ৭০-৮০ জন লোক মোটরসাইকেলযোগে এসে বাড়িতে হামলা চালিয়ে তাকে গামছা দিয়ে বেঁধে টেনে নিয়ে গিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে। ঘটনাটিকে স্থানীয়রা ফিল্মি কায়দার হত্যাকাণ্ড হিসেবে বর্ণনা করছেন।
নিহত প্রকৌশলীর নাম সিফাত আহমেদ বাবু (২৪)। তিনি মানকোন ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামের হাতেম আলীর একমাত্র সন্তান। সিফাত ঢাকার সাভারে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার মানকোন ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে সিফাতের সঙ্গে উপজেলার কেশবপুর গ্রামের মালেক মিয়ার মেয়ে সাথী আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই দাম্পত্য জীবনে কলহ চলছিল। চাকরির কারণে সিফাত বেশিরভাগ সময় ঢাকায় থাকতেন। আর তার স্ত্রী সাথী আক্তার বেশিরভাগ সময় বাবার বাড়িতেই অবস্থান করতেন।
গত ১৬ ডিসেম্বর ছুটিতে বাড়িতে এসে সিফাত স্ত্রীকে আনতে গেলে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে ফিরিয়ে দেয়। পরে সিফাতের মা নিলুফা বেগম ছেলের স্ত্রীকে আনতে গেলে তাকেও কটুকথা শোনানো হয়। পরে সাথী আক্তার শ্বশুরবাড়িতে ফিরে এলেও সন্ধ্যায় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আবার বাকবিতণ্ডা হয়।
একপর্যায়ে সাথী আক্তার ফোন করে বাবার বাড়ির লোকজনকে খবর দেন।
৭০-৮০ জন এসে বাড়িতে হামলা চালায়’
স্বজনদের অভিযোগ, খবর পেয়ে কেশবপুর এলাকা থেকে ৭০-৮০ জন লোক মোটরসাইকেলযোগে সিফাতের বাড়িতে এসে হামলা চালায়। পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠলে সিফাতের বাবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশের সহায়তা চান। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে ফিরে যায়।
কিন্তু পুলিশের চলে যাওয়ার মাত্র ১০ মিনিট পরই ঘটে মর্মান্তিক ঘটনা।
অচেতন অবস্থায় উদ্ধার, হাসপাতালে মৃত্যু
স্থানীয় লোকজন পরে ময়মনসিংহ-জামালপুর সড়কের কামনা অটো রাইস মিলের পেছনের একটি পতিত ক্ষেত থেকে সিফাতকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন। দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বারবার মূর্ছা যাচ্ছিল নিহতের মা নিলুফা বেগমের। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন,
আমার একটাই ছেলে ওরা আমার ছেলেকে মেরে ফেলল। ৭০-৮০ জন লোক এসে আমার বাড়িতে হামলা চালায়। গেট বন্ধ করে রাখলেও আমার পুত্রবধূ গেট খুলে দেয়। এরপর ওরা গামছা দিয়ে আমার ছেলের কোমর বেধে মারধর শুরু করে। এরপর আর কিছু মনে নেই তোমরা আমার ছেলেকে এনে দাও।
স্থানীয় বাসিন্দা আকরাম হোসেন বলেন,
এশার নামাজের সময় খবর পাই কেশবপুর থেকে অনেক লোক এসে হামলা চালাচ্ছে। নামাজ শেষে এসে দেখি পুলিশ ছিল। পুলিশ চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর খবর পাই রাইস মিলের পেছনে সিফাতের অচেতন দেহ পড়ে আছে।
কামনা অটো রাইস মিলের সামনে চা দোকানি আব্দুল কুদ্দুস বলেন,৭০-৮০ জন লোক মোটরসাইকেল নিয়ে এসে দাঁড়িয়েছিল। প্রথমে ভাবছিলাম পিকনিক। পরে বুঝি বিষয়টা ভয়ংকর। ওরা ভাগ হয়ে বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান নেয়। সবকিছুই পরিকল্পিত মনে হয়েছে।
মুক্তাগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ লুৎফুর রহমান বলেন, ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ পাঠানো হয়। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।