
(১০ মাস আগে) ২০ ডিসেম্বর ২০২৫, শনিবার, ৭:৪০ অপরাহ্ন
দেশের প্রধান আকাশপথ হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। এক সময় যে নামটির সাথে জড়িয়ে ছিল অব্যবস্থাপনা আর যাত্রী হয়রানির তকমা, সেখানেই এখন বইছে পরিবর্তনের হাওয়া। আর এই পরিবর্তনের নেপথ্যে রয়েছেন এক তরুণ ও উদ্যমী কর্মকর্তা—নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদ খান। তার সাহসিকতা এবং সময়োপযোগী পদক্ষেপগুলো প্রবাসী ও সাধারণ যাত্রীদের মাঝে ব্যাপক প্রশংসা কুড়াচ্ছে।
ই-স্কুটারে তদারকি ও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা
বিমানবন্দরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ই-স্কুটারে ছুটে চলা এই ম্যাজিস্ট্রেট কেবল ড্যাশিং লুকের জন্যই নয়, বরং তার তড়িৎ সিদ্ধান্তের জন্য পরিচিতি পেয়েছেন। যোগদানের অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি বিমানবন্দরের ভেতরে থাকা খাবারের সিন্ডিকেট এবং চুরির চক্রের ওপর কঠোর আঘাত হেনেছেন। ৫ টাকার সমুসা ৩০ টাকায় বিক্রি করায় এক দোকানিকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করার ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
নিরাপত্তায় ডিজিটাল বিপ্লব: বডি ক্যামেরা
সবচেয়ে আলোচিত এবং প্রশংসিত উদ্যোগটি হলো লাগেজ হ্যান্ডলিং কর্মীদের শরীরে 'বডি ওর্ন ক্যামেরা' সংযুক্ত করা।
* কেন এই ব্যবস্থা? লাগেজের মালামাল চুরি বা ব্যাগ কাটার দীর্ঘদিনের অভিযোগ বন্ধে এই পদক্ষেপ।
* মনিটরিং: এই ক্যামেরার ফুটেজ সরাসরি তদারকি করার ব্যবস্থা রয়েছে, ফলে কর্মীরা কাজে ফাঁকি বা অনিয়ম করার সুযোগ পাচ্ছেন না।
অনিয়মের বিরুদ্ধে আপসহীন
নওশাদ খান দায়িত্ব নেওয়ার পর বিমানবন্দরের টয়লেটগুলোতে বকশিসের নামে যাত্রী হয়রানি প্রায় বন্ধ হয়ে এসেছে। পচা-বাসি খাবার বিক্রির বিরুদ্ধে তিনি জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন। সম্প্রতি মোবাইল চুরির দায়ে একজনকে ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়ে তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন—এখানে অপরাধ করে পার পাওয়ার সুযোগ নেই।
সক্রিয় হেল্পডেস্ক ও উন্নত সেবা
যাত্রীরা যাতে যেকোনো সমস্যায় দ্রুত সমাধান পান, সেজন্য হেল্পডেস্ককে নতুন করে সাজানো হয়েছে। জরুরি যোগাযোগের নম্বরগুলো ব্যানার আকারে দেওয়া হয়েছে যাতে সাধারণ যাত্রীরা সহজেই ম্যাজিস্ট্রেটের হস্তক্ষেপ কামনা করতে পারেন।
আগামীর শঙ্কা ও প্রত্যাশা
সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, নওশাদ খানের মতো কর্মকর্তাদের কারণে বিমানবন্দরের চিত্র গত কয়েক মাসে আমূল বদলে গেছে। তবে প্রশ্ন উঠেছে, বিমানবন্দরের শক্তিশালী সিন্ডিকেটগুলোর বিরুদ্ধে তিনি কতদিন টিকে থাকতে পারবেন? সাধারণ মানুষ ও প্রবাসীদের দাবি, রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাকে পূর্ণ সুরক্ষা ও সহযোগিতা প্রদান করা হোক, যাতে শাহজালাল বিমানবন্দর সত্যিকার অর্থেই একটি আন্তর্জাতিক মানের সেবা কেন্দ্রে পরিণত হয়।
নওশাদ খান জানিয়েছেন, “যাত্রী হয়রানি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে। আমাদের লক্ষ্য যাত্রীদের ভোগান্তিহীন সেবা নিশ্চিত করা।