
(৭ মাস আগে) ৬ জানুয়ারি ২০২৬, মঙ্গলবার, ১:৫২ অপরাহ্ন
গভীর সমুদ্রের সম্পদ সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পর্যাপ্ত গবেষণা ও নীতিগত সহায়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেছেন, সমুদ্রসম্পদের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হলে আগে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে হবে এবং দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সমন্বিত গবেষণা জরুরি।
মঙ্গলবার সকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত এক সভায় গবেষণা জাহাজ R.V. Dr. Fridtjof Nansen কর্তৃক সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ ও ইকোসিস্টেম বিষয়ক জরিপ ও গবেষণা প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেয় সংশ্লিষ্ট কমিটি।
সভায় উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেস-এর অধ্যাপক সায়েদুর রহমান চৌধুরী এবং মৎস্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ড. মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন।
গত বছরের ২১ আগস্ট থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ জরিপ পরিচালিত হয়। আটটি দেশের মোট ২৫ জন বিজ্ঞানী এতে অংশ নেন, যার মধ্যে ১৩ জন ছিলেন বাংলাদেশি।
সভায় গবেষণার ফলাফল তুলে ধরে অধ্যাপক সায়েদুর রহমান চৌধুরী জানান, এ গবেষণায় নতুন ৬৫টি জলজ প্রাণির প্রজাতির অস্তিত্ব শনাক্ত হয়েছে। তিনি বলেন, গভীর সমুদ্রে জেলিফিশের অস্বাভাবিক আধিক্য ইকোসিস্টেমের ভারসাম্যহীনতার লক্ষণ, যা মূলত ওভারফিশিংয়ের ফল। এছাড়া দুই হাজার মিটার গভীরতায় প্লাস্টিকের উপস্থিতি গভীর উদ্বেগজনক বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১৮ সালের তুলনায় বর্তমানে গভীর সমুদ্রে বড় মাছের সংখ্যা কমে গেছে এবং স্বল্প গভীর সমুদ্রেও মাছ আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পাচ্ছে।
সভায় জানানো হয়, বর্তমানে ২৭০ থেকে ২৮০টি বড় ফিশিং ট্রলার গভীর সমুদ্রে মাছ আহরণ করছে, যার মধ্যে প্রায় ৭০টি ট্রলার sonar প্রযুক্তি ব্যবহার করে টার্গেটেড ফিশিং চালাচ্ছে। এ ধরনের আগ্রাসী মাছ ধরার ফলে গভীর সমুদ্রে বড় মাছ ধরার সঙ্গে যুক্তরা লাভবান হলেও স্বল্প গভীর পানির জেলেরা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, এভাবে টার্গেটেড ফিশিং চলতে থাকলে বঙ্গোপসাগর মাছশূন্য হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। Sonar fishing বিষয়ে সরকার শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেবে।
গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, বাংলাদেশে ডিপ সি ফিশিংয়ে টুনা মাছের প্রাচুর্য রয়েছে এবং এর ব্যাপক সম্ভাবনাও বিদ্যমান। পাশাপাশি সুন্দরবনের নিচে একটি গুরুত্বপূর্ণ ফিশিং নার্সারি শনাক্ত করা হয়েছে, যা সংরক্ষণের জন্য সরকার ইতোমধ্যেই নির্দেশনা দিয়েছে।
সভায় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমাদের দেশের স্থলভাগের সমপরিমাণ জলভাগ রয়েছে। কিন্তু এ সম্পদের পরিমাণ ও সম্ভাবনা সম্পর্কে আমরা এখনও পর্যাপ্ত ধারণা অর্জন করতে পারিনি। এই সম্পদকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে গবেষণা ও পলিসি সাপোর্ট অপরিহার্য।
সভায় আরও জানানো হয়, যুক্তরাজ্যের রয়্যাল নেভির বহুমুখী হাইড্রোগ্রাফিক ও ওশেনোগ্রাফিক সার্ভে ভেসেল এইচএমএস এন্টারপ্রাইজ বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। ভেসেলটি সমুদ্রতল, গভীরতা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক তথ্য সংগ্রহে সহায়তা করবে।
প্রধান উপদেষ্টা জাপান, ইন্দোনেশিয়া ও মালদ্বীপের সঙ্গে যৌথ সামুদ্রিক গবেষণা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, সমস্যা চিহ্নিত করে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সমন্বিত গবেষণার মাধ্যমেই অর্থনীতির নতুন দিগন্ত উন্মোচন সম্ভব।