
(৬ মাস আগে) ৬ জানুয়ারি ২০২৬, মঙ্গলবার, ৮:৩২ অপরাহ্ন
বিএনপির চেয়ারপারসন, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আপসহীন গণতন্ত্রের প্রতীক দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় নাগরিক শোক সভা ও শোক মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সীমান্তবর্তী উপজেলা ধোবাউড়ার ইতিহাসে সর্ববৃহৎ এই নাগরিক শোক সভা ও শোক মিছিলে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, গণ অধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। পাশাপাশি শিক্ষক, মুক্তিযোদ্ধা, আলেম-ওলামা, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, কর্মজীবী মানুষ, সাংস্কৃতিক কর্মী, গারো, হাজং, হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্য, শ্রমিক, কৃষক ও শিক্ষার্থীরাসহ সর্বস্তরের মানুষ কালো পতাকা হাতে কর্মসূচিতে যোগ দেন। শোক মিছিলের অগ্রভাগে বেগম খালেদা জিয়ার বিশাল প্রতিকৃতি বহন করা হয়।
মঙ্গলবার সকাল থেকে দিনব্যাপী ধোবাউড়া ধাইরপাড়া গরু হাট মাঠে নাগরিক শোক সভা অনুষ্ঠিত হয়। শোক সভা শেষে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসনের মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সের নেতৃত্বে বিশাল শোক মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ধোবাউড়া বাজার ব্রীজ, ধান মহাল, ব্যাংক মোড়, বাজার, শহীদ মিনার, উপজেলা পরিষদ মোড়, হাসপাতাল মোড়, আদর্শ ডিগ্রি কলেজ ও থানা রোড প্রদক্ষিণ করে পুনরায় বাজার ব্রীজে গিয়ে শেষ হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, “আজ ধোবাউড়ার আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে আছে শোকে। বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু শুধু বিএনপির নয়, এটি গণতন্ত্রকামী সমগ্র জাতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।” তিনি বলেন, “তিনি ছিলেন স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের সবচেয়ে সাহসী ও জনপ্রিয় নেত্রী। স্বৈরাচার, দমন-পীড়ন ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে তিনি আজীবন আপসহীনভাবে লড়াই করেছেন।”
আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি আরও বলেন, “কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠ, অসুস্থ শরীর ও সীমাহীন নির্যাতন—কিছুই তাকে আদর্শচ্যুত করতে পারেনি। আপস না করার রাজনীতির যে দৃষ্টান্ত তিনি রেখে গেছেন, তা ইতিহাসে বিরল।” তিনি যোগ করেন, “আজ আমরা গণতন্ত্রের মাকে হারিয়েছি। আমি দ্বিতীয়বার মাতৃহারা হলাম, জাতি অভিভাবককে হারিয়েছে। তবে তার আদর্শ হারায়নি।”
বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রসঙ্গ টেনে সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, “এই শোকের দিনে আমাদের শপথ নিতে হবে—শোককে শক্তিতে পরিণত করে শহীদ জিয়া ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি গণতান্ত্রিক, মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তুলবো।”
ধোবাউড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল কাদিরের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আনিসুর রহমান মানিকের সঞ্চালনায় শোক সভায় বক্তব্য রাখেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মফিজ উদ্দিন, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক আজহারুল ইসলাম কাজল, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির আবদুল হালিম মাস্টার, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোয়াজ্জেম হোসেন খান লিটন, গণ অধিকার পরিষদের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মিরাস উদ্দিন, ধোবাউড়া মহিলা ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাজহারুল আহসানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।