banglahour

বাউফলে চাল সরবরাহে তালিকাভুক্ত বন্ধ চাতাল, অনিয়মের অভিযোগ

সারাদেশ | মুজাহিদ প্রিন্স, পটুয়াখালী প্রতিনিধি

(১০ মাস আগে) ৭ জানুয়ারি ২০২৬, বুধবার, ৩:১৩ অপরাহ্ন

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় সরকারি খাদ্যগুদামে চাল সরবরাহের জন্য দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা কয়েকটি চাতাল (চালকল)-এর সঙ্গে চুক্তি করার অভিযোগ উঠেছে। উৎপাদন কার্যক্রম না থাকা সত্ত্বেও এসব চাতালের সঙ্গে চুক্তি কেন করা হলো—এ নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কিছু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে সরকারি নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে বছরের পর বছর খাদ্যগুদামে চাল সরবরাহ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এ প্রক্রিয়ায় নিম্নমানের চাল সরবরাহের অভিযোগও রয়েছে।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বাউফল উপজেলার বগা ও কালাইয়া খাদ্যগুদামের জন্য মোট ১ হাজার ৫৩০ মেট্রিকটন চাল সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এর মধ্যে কালাইয়া খাদ্যগুদামের জন্য ৫৫০ মেট্রিকটন এবং বগা খাদ্যগুদামের জন্য ৯৮০ মেট্রিকটন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। প্রতি কেজি চালের মূল্য ধরা হয়েছে ৫০ টাকা।

চাল সংগ্রহের জন্য উপজেলা খাদ্য অফিস পাঁচটি চাতালের সঙ্গে চুক্তি করে। চাতালগুলো হলো— সোনাই অটো রাইস মিল, সিকদার অটো রাইস মিল, সুচিত্রা রাইস মিল, হিরোন বালা রাইস মিল এবং মেসার্স প্যাদা রাইস মিল।

চুক্তি অনুযায়ী, মিল মালিকরা স্থানীয় বাজার থেকে ধান সংগ্রহ করে নিজ নিজ চাতালে প্রক্রিয়াজাত করে উৎকৃষ্ট মানের চাল সরকারি খাদ্যগুদামে সরবরাহ করার কথা।

কার্যালয় সূত্রে আরও জানা গেছে, বগা খাদ্যগুদামের জন্য সোনাই অটো রাইস মিলের সঙ্গে এবং কালাইয়া খাদ্যগুদামের জন্য সিকদার অটো রাইস মিল, সুচিত্রা রাইস মিল, হিরোন বালা রাইস মিল ও মেসার্স প্যাদা রাইস মিলের সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে।

তবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সোনাই ও সিকদার অটো রাইস মিল দুটিতে উৎপাদন কার্যক্রম চলমান থাকলেও বাকি তিনটি— সুচিত্রা রাইস মিল, হিরোন বালা রাইস মিল ও মেসার্স প্যাদা রাইস মিল দীর্ঘ তিন থেকে চার বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। এসব মিলের যন্ত্রপাতি নষ্ট অবস্থায় পড়ে আছে এবং মিল ভবনে ঝুলছে তালা। কোথাও ধান ভাঙানো, সিদ্ধকরণ কিংবা শুকানোর কোনো কার্যক্রম নেই।

অনুসন্ধানে জানা যায়, চলতি মৌসুমে সুচিত্রা রাইস মিলের মালিক রমেশ সাহা নওপাড়া রাইস মিল থেকে চাল কিনে ২৬ মেট্রিকটন চাল বাউফল খাদ্যগুদামে সরবরাহ করেছেন। কাগজে-কলমে দেখানো হয়েছে, স্থানীয় বাজার থেকে ধান সংগ্রহ করে নিজ চাতালে প্রক্রিয়াজাত করা হয়েছে। তবে খাদ্যগুদামের একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, সরবরাহ করা চাল ছিল অত্যন্ত নিম্নমানের।

এ বিষয়ে সুচিত্রা রাইস মিলের মালিক রমেশ সাহার কাছে জানতে চাইলে তিনি সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান।

সুচিত্রা রাইস মিলের পাশেই অবস্থিত হিরোন বালা রাইস মিলটিও দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। এ মিল থেকে ৫৩ মেট্রিকটন চাল সরবরাহ করার কথা রয়েছে। মিলটির মালিক শঙ্কর দাস স্বীকার করেন, তিনি বাইরে থেকে চাল কিনেই সরবরাহ করবেন। তিনি দাবি করেন, “সবাই এভাবেই চাল কিনে সরবরাহ করে। অফিসের লোকজনকে টাকা দিয়েই কাজ ম্যানেজ করতে হয়।”

একই এলাকার মেসার্স প্যাদা রাইস মিলও কয়েক বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। মিলটির মালিক আবদুর রশিদ প্যাদা জানান, তিনি এখনো চাল সরবরাহ শুরু করেননি, তবে মিল বন্ধ থাকায় বাইরে থেকে চাল কিনে খাদ্যগুদামে সরবরাহ করবেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় কৃষক মো. মিল্টন প্যাদা, মো. আলমগীর, মো. ফারুক হোসেনসহ অন্তত ১৫ জন কৃষক জানান, সরকারি নিয়ম মেনে যদি চাতাল মালিকরা স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে ধান কিনে চাতালে চাল তৈরি করে খাদ্যগুদামে সরবরাহ করতেন, তাহলে কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পেতেন। এতে কৃষিকাজে আগ্রহ আরও বাড়ত।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. নুরুল্লাহ বলেন, “চুক্তির সময় চাতালগুলো চালু ছিল।”

উপদেষ্টা সম্পাদকঃ হোসনে আরা বেগম
নির্বাহী সম্পাদকঃ মাইনুল ইসলাম
ফোন: +৮৮০১৬৭৪০৬২০২৩
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম
ফোন: +৮৮ ০১৭ ১২৭৯ ৮৪৪৯
অফিস: ৩৯২, ডি আই টি রোড (বাংলাদেশ টেলিভিশনের বিপরীতে),পশ্চিম রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।
যোগাযোগ: তাহিরুল ইসলাম, ০১৭৭৮০০৪৭০০ contact@banglahour.com
অফিসিয়াল মেইলঃ banglahour@gmail.com
banglahour
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল