
(৭ মাস আগে) ৭ জানুয়ারি ২০২৬, বুধবার, ৭:০৫ অপরাহ্ন
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও বাংলাদেশের মধ্যে কমপ্রিহেনসিভ পার্টনারশিপ অ্যান্ড কো-অপারেশন অ্যাগ্রিমেন্ট (পিসিএ)–এর আলোচনা শিগগিরই চূড়ান্ত হবে বলে জানিয়েছেন ইউরোপীয় এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।
ইউরোপীয় এক্সটারনাল অ্যাকশন সার্ভিস (ইইএএস)-এর এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক পাওলা পাম্পালোনি বুধবার ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন।
বৈঠকে বাংলাদেশ–ইইউ সম্পর্কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে ছিল ব্যাপক অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা কাঠামো চুক্তির (পিসিএ) আলোচনা, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট, অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধ, এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ।
পাওলা পাম্পালোনি বলেন, দীর্ঘ ২০ বছর সাধারণ অংশীদারিত্ব চুক্তির পর ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে পিসিএ নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়। এই চুক্তি বাংলাদেশ ও ইইউর মধ্যে সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগে বড় সুযোগ সৃষ্টি করবে।
তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে অধ্যাপক ইউনূসের অবিশ্বাস্য ও ব্যাপক সংস্কার কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার উদ্যোগ ইউরোপীয় ইউনিয়ন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে এবং তা অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে।
জবাবে অধ্যাপক ইউনূস অন্তর্বর্তী সরকারকে গত ১৭ মাসে ইইউর ধারাবাহিক সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, পিসিএ বাংলাদেশের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি, যা বাংলাদেশ–ইইউ সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে।
পাওলা পাম্পালোনি জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে ইইউ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে, যার প্রতিফলন হিসেবে ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণে একটি উচ্চপর্যায়ের বড় নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশনের প্রধান চলতি সপ্তাহেই বাংলাদেশে আসবেন এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক দলগুলো জুলাই সনদে সম্মতি জানিয়েছে এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালাবে বলে তিনি আশাবাদী।
আমি মনে করি না কোনো দল ‘না’ ভোট চাইবে, বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, গত ১৬ বছর ধরে দেশবাসী অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের সুযোগ পায়নি। এবার মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে পারবে—এমন আশ্বাসও দেন তিনি।
পাওলা পাম্পালোনি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, সফল গণতান্ত্রিক রূপান্তরের পর বাংলাদেশ–ইইউ সম্পর্ক নতুন মাত্রা পাবে এবং বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনৈতিক জোটের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততার এক নতুন অধ্যায় শুরু হবে।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, এসডিজি সমন্বয়ক ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোর্শেদ, এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার।