
(৬ মাস আগে) ৯ জানুয়ারি ২০২৬, শুক্রবার, ৭:৫৮ অপরাহ্ন
কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী–পাকুন্দিয়া) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে সাবেক বিএনপি নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জনের পরিবার। নির্বাচনে তিনি নিজে অংশ না নিলেও একই পরিবার থেকে ভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয়ে ছেলে ও ভাই প্রার্থী হওয়ায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
বিএনপির সাবেক দুইবারের সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জন দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় রাজনীতিতে আলোচিত ব্যক্তিত্ব। দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে ২০২২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি পঞ্চমবারের মতো বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন। বর্তমানে নির্বাচনী মাঠে না থাকলেও বিভিন্ন রাজনৈতিক সভা ও টকশোতে জামায়াতের পক্ষে বক্তব্য দিয়ে সক্রিয় রয়েছেন।
এবারের নির্বাচনে তার বড় ছেলে শাহরিয়ার জামান বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। অপরদিকে তার বড় ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আনিসুজ্জামান খোকন একই আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। একই পরিবারের দুই ভাই ও এক সন্তানের ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান ভোটারদের মধ্যে কৌতূহল ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী আনিসুজ্জামান খোকন একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদ। তিনি ১৯৭৯ সালে ময়মনসিংহ-১৯ আসন থেকে বিএনপির সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সে সময় তিনি বিএনপির গণশিক্ষা বিষয়ক সহ-সম্পাদক ছিলেন এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি ১১ নম্বর সেক্টরে কর্নেল আবু তাহেরের অধীনে কোম্পানি কমান্ডার হিসেবে সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নেন।
ছাত্রজীবনেও তিনি সক্রিয় ছিলেন। ১৯৭০ সালে সরকারি তিতুমীর কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) হিসেবে নেতৃত্ব দেন।
আনিসুজ্জামান খোকন বলেন, “জিয়াউর রহমানের শাসনামলে আমি সংসদ সদস্য ছিলাম। জিয়ার মৃত্যুর পর বেগম খালেদা জিয়াকে রাজনীতিতে নিয়ে আসার ক্ষেত্রেও আমার ভূমিকা ছিল। পরে যুক্তরাষ্ট্রে চলে গেলেও আমি কখনো সে দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করিনি।”
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এই নির্বাচনে আমার জয়ের সম্ভাবনা কম। তবে রাজনীতির ধারাবাহিকতা ও মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরতেই আমার এই অংশগ্রহণ।”
এদিকে কিশোরগঞ্জ-২ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মনোনয়ন শুরুতে দেওয়া হয়েছিল শফিকুল ইসলাম রুহানিকে। কয়েক মাস প্রচারণা চালানোর পর মনোনয়নপত্র জমার ঠিক আগ মুহূর্তে প্রার্থী পরিবর্তন করে শাহরিয়ার জামানকে মনোনয়ন দেওয়া হয়।
শাহরিয়ার জামান বলেন, “দল আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছে, আমি তা পালন করব। নতুন প্রজন্মকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চাই। আমার চাচা স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করছেন, এটা তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। একই পরিবার থেকে একাধিক প্রার্থী হওয়াকে আমি কোনো সমস্যা হিসেবে দেখি না। জনগণ যাকে নির্বাচিত করবে, সেটাই আমরা মেনে নেব।”
এ বিষয়ে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জন বলেন, “আমি নিজে এবার নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি না। গণতান্ত্রিক দেশে যে কেউ নির্বাচন করতে পারে। আমার ছেলে ও ভাই নির্বাচন করছে,এতে দোষের কিছু দেখি না। ভাইয়ের সিদ্ধান্ত তার নিজের।”