
(৯ মাস আগে) ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, বুধবার, ৪:১৯ অপরাহ্ন
মামলা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে মোংলা বন্দরে পানামা পতাকাবাহী বিদেশি জাহাজ ‘এমভি এইচটিপি আম্বার’ আটক করা হয়েছে। সার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান খাঁন ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডিং-এর দায়ের করা ক্ষতিপূরণ মামলায় গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) উচ্চ আদালত এ আদেশ দেন।
তবে বন্দরের হারবার বিভাগ জানিয়েছে, আদালতের নির্দেশনার মধ্যেও জাহাজটি থেকে নিয়মিত সার খালাস কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
জানা গেছে, গত ২৪ ডিসেম্বর ভারতের পারাদ্বীপ বন্দর থেকে ৯ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন সার বোঝাই করে জাহাজটি ২৭ ডিসেম্বর মোংলা বন্দরে পৌঁছে। জাহাজটির বাংলাদেশের শিপিং এজেন্ট কসমস শিপিং লাইন্স লিমিটেড-এর মহাব্যবস্থাপক সিরাজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক সোহাগ আহমেদ খাঁন বলেন, জাহাজটি বন্দরে আসার পর প্রথম দিনে এক হাজার মেট্রিক টন সার খালাস হলেও পরবর্তী ১২ দিন জাহাজ কর্তৃপক্ষ খালাস কার্যক্রম বন্ধ রাখে। এতে সার সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে এবং লাইটার ভাড়া ও শ্রমিক নিয়োগসহ বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়।
তিনি আরও বলেন, জাহাজ ভাড়াকারি প্রতিষ্ঠান মুরালি ট্রেডিং-এর সঙ্গে জাহাজ কর্তৃপক্ষের ভাড়া সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তাদের পণ্য খালাস বন্ধ রাখা হয়, যার দায় আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান কেন নেবে ? এ প্রশ্ন তোলেন তিনি।
এ ঘটনায় গত ৮ জানুয়ারি উচ্চ আদালতে অ্যাডমিরালটি স্যুট (সামুদ্রিক আইন) ১/২০২৬ আইনে মামলা করা হয়। মামলার নথিপত্র ৯ জানুয়ারি মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হলে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী জাহাজটি আটক রাখা হয়। বর্তমানে জাহাজটি বন্দরের বেসক্রিক-৪ নম্বর বয়ায় নোঙর করা রয়েছে।
সোহাগ আহমেদ খাঁন জানান, ১২ দিন সার খালাস বন্ধ থাকার ক্ষতিপূরণ দেওয়া হলে মামলা প্রত্যাহার করা হবে।
উল্লেখ্য, এর আগেও ২০২৩ সালে রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কয়লা বহনকারী লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী একটি বিদেশি জাহাজ আদালতের নির্দেশে মোংলা বন্দরে আটক হয়েছিল। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যবসায়িক বিরোধের কারণে মোংলা বন্দরে বিদেশি জাহাজ আটক নতুন কোনো ঘটনা নয়।