banglahour

কোড–ভুলে আটকে ১০৪ শিক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশন, অনিশ্চয়তায় ভবিষ্যৎ

শিক্ষা | রাশিদুল ইসলাম রাশেদ | কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

(৬ মাস আগে) ১৬ জানুয়ারি ২০২৬, শুক্রবার, ১০:৪৭ পূর্বাহ্ন

একটি প্রশাসনিক ত্রুটির দায় কার—সে প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। তবে সেই ভুলের খেসারত দিতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আরোপিত অতিরিক্ত জরিমানার কারণে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের মাস্টার্স শেষ পর্বের ১০৪ শিক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম আটকে গেছে, ফলে তাদের শিক্ষাজীবন পড়েছে অনিশ্চয়তায়।

২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষে কলেজটির প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ফিশারিজ শাখায় ভর্তি হওয়া এসব শিক্ষার্থীর পত্র কোড এন্ট্রির সময় ভুলবশত ওয়াইল্ড লাইফ বায়োলজি শাখার কোড যুক্ত হয়ে যায়। বিষয়টি নজরে আসার পর কলেজ কর্তৃপক্ষ লিখিতভাবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে জানালে কর্তৃপক্ষ নিজ উদ্যোগে সার্ভার খুলে সংশোধনের সুযোগ দেয়। পরে সঠিক কোড এন্ট্রি সম্পন্ন করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংরক্ষণ করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকেও জানানো হয়—এন্ট্রি সংক্রান্ত আর কোনো জটিলতা নেই।

কিন্তু সমস্যার সমাধান হওয়ার পরই নতুন জটিলতা তৈরি হয়। কয়েক সপ্তাহ পর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে পাঠানো এক চিঠিতে প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য ৬০০ টাকা হারে পুনরায় কোড এন্ট্রি ফি এবং কলেজের ওপর এককালীন ৫ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়। এতে মোট ৬৭ হাজার ৪০০ টাকা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এই অর্থ পরিশোধ না হওয়ায় এখনো শিক্ষার্থীরা তাদের রেজিস্ট্রেশন কার্ড ডাউনলোড করতে পারছেন না।

কলেজ সূত্র জানায়, শিক্ষার্থীরা আগেই নির্ধারিত ৩ হাজার ৮৭৫ টাকা ফি পরিশোধ করেছে, যার মধ্যেই পত্র কোড এন্ট্রির ফি অন্তর্ভুক্ত ছিল।

প্রাণিবিদ্যা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক রেজাউল করিম বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ২৭টি কলেজের একটি তালিকায় ভুলবশত কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অথচ এ কলেজের বিষয়টি আগেই নিষ্পত্তি হয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে জরিমানা আরোপ অযৌক্তিক।

এ ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে আরও একটি বিষয়ে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক পরিপত্রে বলা আছে, জরিমানার অর্থ কোনো অবস্থাতেই শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা যাবে না; তা সংশ্লিষ্ট কলেজকে বহন করতে হবে। তবে বাস্তবে এর চাপ গিয়ে পড়ছে শিক্ষার্থীদের ওপরই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ প্রকৃতপক্ষে এই জরিমানার আওতায় পড়ে না। ভুল তালিকাভুক্তির কারণেই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু সংশোধনের পরও কলেজকে এর মাশুল গুনতে হচ্ছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মো. শফি আলম বলেন, “জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়লেই যেন একের পর এক জরিমানার বোঝা চাপানো হয়। বিলম্বে ফরম পূরণে হাজার হাজার টাকা জরিমানা দিতে হয়—এসব আমাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর।”

অন্য শিক্ষার্থী মাহমুদা খাতুন বলেন, “অন্য সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন অতিরিক্ত ফি ও জরিমানার কথা আমরা শুনিনি। মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান হিসেবে এখানে পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়াই কঠিন হয়ে পড়ছে।”

কলেজ অধ্যক্ষ মির্জা নাসির উদ্দিন বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিলে যে অর্থ জমা পড়ে, তা মূলত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেই আসে। ফলে জরিমানার বোঝা শেষ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ওপরই পড়ে। তিনি বলেন, পত্র কোড এন্ট্রিতে কোনো অবহেলা ছিল না এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনা অনুসরণ করেই সব কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। এমন অবস্থায় জরিমানা আরোপ অপ্রত্যাশিত।

সংশোধিত একটি ভুলের পরও কেন জরিমানা—তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা এখনো পাওয়া যায়নি। এদিকে রেজিস্ট্রেশন কার্ড আটকে থাকায় পরীক্ষা ও পরবর্তী একাডেমিক কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে।

উপদেষ্টা সম্পাদকঃ হোসনে আরা বেগম
নির্বাহী সম্পাদকঃ মাইনুল ইসলাম
ফোন: +৮৮০১৬৭৪০৬২০২৩
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম
ফোন: +৮৮ ০১৭ ১২৭৯ ৮৪৪৯
অফিস: ৩৯২, ডি আই টি রোড (বাংলাদেশ টেলিভিশনের বিপরীতে),পশ্চিম রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।
যোগাযোগ: তাহিরুল ইসলাম, ০১৭৭৮০০৪৭০০ contact@banglahour.com
অফিসিয়াল মেইলঃ banglahour@gmail.com
banglahour
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল