
(৬ মাস আগে) ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, সোমবার, ১০:৩০ অপরাহ্ন
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল আজ সোমবার সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসেরসঙ্গে বৈঠক করেছেন। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ, উদ্বেগ ও প্রস্তাব উপস্থাপন করেন এনসিপি নেতৃবৃন্দ।
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম-এর নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া, সেক্রেটারি মনিরা শারমিন এবং আইনি সহায়তাবিষয়ক উপকমিটির প্রধান জহিরুল ইসলাম মূসা।
বৈঠকে সরকারের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।
বৈঠকে এনসিপি নেতারা জানান, গণভোটে “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। একই সঙ্গে তারা নির্বাচন সংক্রান্ত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে সরকারের আরও সক্রিয় ভূমিকা কামনা করেন।
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেন,
নির্বাচন সম্পর্কিত যেকোনো অভিযোগ ও পরামর্শ তাৎক্ষণিকভাবে সরকারকে জানাবেন। সরকারের পক্ষ থেকে যে ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তা নেওয়া হবে। কেউ যেন আইন অমান্য না করতে পারে সে ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন,নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতেই লটারির মাধ্যমে মাঠ প্রশাসনে রদবদল করা হয়েছে। এ নির্বাচনে কোনো পক্ষপাতিত্বের সুযোগ নেই। এটি দেশের ভাগ্য নির্ধারণের নির্বাচন, দেশ পাল্টে দেওয়ার নির্বাচন। এই নির্বাচন সুষ্ঠু হতেই হবে।
প্রধান উপদেষ্টা জানান, অধিকাংশ ভোটকেন্দ্র জানুয়ারির মধ্যেই সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জন্য বডি ক্যামেরা ব্যবহারের ব্যবস্থা থাকবে। এসব ক্যামেরা কন্ট্রোল রুম থেকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হবে।
গণভোটে “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে সরকারের প্রচারণা আইনসম্মত উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন,
‘হ্যাঁ’ ভোট কেন প্রয়োজন এবং ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে কী পরিবর্তন আসবে—তা আমরা জনগণকে বোঝানোর চেষ্টা করছি। এ ব্যাপারে সব রাজনৈতিক দলকেও আহ্বান জানানো হয়েছে।
তিনি বলেন, এবারের নির্বাচন যাতে সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে হয়—এই দায়িত্ব সরকার, নির্বাচন কমিশন ও রাজনৈতিক দলসহ আমাদের সবার। এ ক্ষেত্রে সকল রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা কামনা করছি।