
(৭ মাস আগে) ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, শুক্রবার, ৭:৩১ অপরাহ্ন
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রস্তাবিত ২৫ বছর মেয়াদি জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনা ২০২৫ (ইপিএসএমপি ২০২৫) বাতিলের দাবিতে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। বৃহস্পতিবার সকালে কলাপাড়া প্রেসক্লাবের সামনে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিবাদকারীরা অভিযোগ করেন, ২০২৬–২০৫০ মেয়াদি খসড়া জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনাটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত না করেই প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে পরিবেশ ও সমাজের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি এবং জনগণের অংশগ্রহণ সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষিত হয়েছে। পাশাপাশি ডলারের রিজার্ভ সুরক্ষায় এলএনজি-নির্ভরতা ও বিলাসী প্রকল্প থেকে সরে আসার আহ্বান জানান তারা।
প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম–পটুয়াখালীর আহ্বায়ক অমল মুখার্জির সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব মো. নজরুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন পরিবেশ কর্মী মেজবাহউদ্দিন মান্নু, সাবেক কাউন্সিলর মনোয়ারা বেগম এবং প্রান্তজন ট্রাস্টের মাঠ সমন্বয়ক সাইফুল্লাহ মাহমুদ। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন কলাপাড়া প্রেসক্লাবের সদস্য শরীফুল হক শাহীন, আমরা কলাপাড়াবাসী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সভাপতি নাজমুস সাকিবসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
বাংলাদেশের প্রতিবেশ ও উন্নয়ন কর্মজোট (বিডব্লিউজিইডি)-এর উদ্যোগে এবং প্রান্তজন ট্রাস্ট, প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম–পটুয়াখালী ও উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন)-এর সহ-আয়োজনে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
বক্তারা বলেন, খসড়া মহাপরিকল্পনা প্রণয়নে কোনো জনশুনানি বা উন্মুক্ত পরামর্শ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি, যা পূর্ববর্তী স্বৈরাচারী সরকারের অস্বচ্ছ নীতিরই পুনরাবৃত্তি। অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নিয়মিত রাষ্ট্র পরিচালনায় সীমাবদ্ধ থাকার কথা থাকলেও তারা দীর্ঘমেয়াদি ও ঝুঁকিপূর্ণ একটি জ্বালানি পরিকল্পনা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
তারা আরও বলেন, পরিকল্পনায় তথাকথিত ‘এনার্জি ট্রানজিশন’ তুলে ধরা হলেও বাস্তবে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ মাত্র ১৭ শতাংশ। গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তাব, এলএনজি ও কয়লার ওপর দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরতা এবং পরীক্ষামূলক ও ব্যয়বহুল প্রযুক্তির ব্যবহার দেশের অর্থনীতি, পরিবেশ ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি করবে।
প্রতিবাদ কর্মসূচি থেকে চার দফা দাবি জানানো হয়—
অবিলম্বে ইপিএসএমপি ২০২৫ স্থগিত ও বাতিল করতে হবে;
নাগরিক সমাজ ও বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে স্বচ্ছ জাতীয় পরামর্শ প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে;
জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভরতা কমিয়ে ১০০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানির বাস্তবসম্মত রোডম্যাপ প্রণয়ন করতে হবে;
এবং ন্যায্য ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি রূপান্তরের ভিত্তিতে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
বক্তারা সতর্ক করে বলেন, এসব দাবি উপেক্ষা করা হলে এই মহাপরিকল্পনা দেশের ইতিহাসে আরেকটি জনবিরোধী ও দায়মুক্তিমূলক নথি হিসেবে চিহ্নিত হবে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।