
(৭ মাস আগে) ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, শনিবার, ১১:২৮ অপরাহ্ন
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার সীমান্তঘেঁষা ডিবির হাওরের লাল শাপলা বিল কচুরিপানার আগ্রাসনে তার নৈসর্গিক সৌন্দর্য হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছে বলে মনে করছেন পরিবেশ সংগঠকরা। অবিলম্বে কচুরিপানার বিস্তার রোধ ও বিলের প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণের দাবি জানানো হয়েছে।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে পরিবেশবাদী সংগঠন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)–এর উদ্যোগে একটি প্রতিনিধি দল শাপলা বিল ও জৈন্তিয়ার রাজা বিজয় সিংহের সমাধিসৌধ পরিদর্শন করেন। দলের নেতৃত্ব দেন ধরা’র কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা ও সিলেট কিডনি ফাউন্ডেশনের সভাপতি প্রফেসর ডা. জিয়াউদ্দিন আহমেদ।
পরিদর্শন দলে ছিলেন জার্মানপ্রবাসী লেখক ও ঐতিহ্য গবেষক সাকি চৌধুরী, মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক, ধরা সিলেটের আহ্বায়ক ডা. মোস্তফা শাহজামান চৌধুরী, সদস্য সচিব আব্দুল করিম কিম এবং পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি অ্যাডভোকেট গোলাম সোবাহান চৌধুরী।
এ সময় স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন জৈন্তিয়া ফটোগ্রাফি সোসাইটির নেতৃবৃন্দ ‘তরুছায়া প্রকল্প’-এর মাধ্যমে বিলের চারপাশে প্রায় ১৪ হাজার গাছ রোপণের তথ্য তুলে ধরেন।
প্রায় দেড় ঘণ্টা পরিদর্শন শেষে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কচুরিপানার অব্যাহত বিস্তার অব্যাহত থাকলে অচিরেই শাপলা বিলের প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও সৌন্দর্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পাশাপাশি কিছু স্থানে রোপণ করা গাছ স্থানীয় বাস্তুতন্ত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেও মত দেন পরিবেশবিদরা।
পরিদর্শক দল রাজা বিজয় সিংহের সমাধিসৌধ সংরক্ষণে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং শাপলা বিলের প্রাণ–প্রকৃতি রক্ষায় নিয়মিত ব্যবস্থাপনার দাবি জানান। তারা হিজল, করচ, তাল, সুপারি ও দেশীয় বনজ–ফলজ গাছ রোপণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
উল্লেখ্য, ২০১০ সালের দিকে শীতকালে ডিবির হাওরের এই অংশে লাল শাপলার অস্তিত্ব নজরে আসে। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে পরিচিতি পেয়ে এটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়। তবে পর্যাপ্ত সুযোগ–সুবিধার অভাবে এবং পরিবেশগত ব্যবস্থাপনার ঘাটতিতে শাপলা বিল এখন হুমকির মুখে।