
(৯ মাস আগে) ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, রবিবার, ৩:০৬ অপরাহ্ন
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর হাটে ইজারা না দিয়ে ‘খাস কালেকশন’-এর নামে ব্যাপক অনিয়ম ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, খাস আদায়ের নামে আদায়কৃত টাকার সামান্য অংশ সরকারি কোষাগারে জমা হলেও বড় অংশই সংশ্লিষ্টদের পকেটে যাচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত বাংলা বছর ১৪৩০ সালে বহরপুর হাট থেকে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা রাজস্ব জমা হলেও চলতি বছর ১৪৩১ সালে খাস আদায়ের পরিমাণ নেমে এসেছে মাত্র ৬০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকায়। অথচ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে আগের চেয়ে বেশি খাজনা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, উপজেলা প্রশাসনের একটি অংশের সঙ্গে আঁতাত করে বহরপুর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা এই খাস আদায়ের টাকা ভাগবাটোয়ারা করছেন।
বহরপুর বাজার বণিক সমিতির সভাপতি ও বিগত বছরের ইজারাদাররা জানান, বহরপুর হাট একটি ঐতিহ্যবাহী হাট। ২০২৩–২৪ অর্থবছরে হাটটি প্রায় ১ কোটি ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকায় ইজারা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু চলতি বছর হাটটি ইজারা না দিয়ে কেন খাস আদায়ের আওতায় আনা হলো এবং রাজস্ব কেন কমে গেল—তা নিয়ে তারা বিস্ময় প্রকাশ করেন।
হাটের দিন ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মাছ বিক্রেতাদের কাছ থেকে প্রতি হাটে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত খাজনা আদায় করা হচ্ছে। অন্যান্য মাছ ব্যবসায়ী ও কাঁচামাল, মাংসসহ বিভিন্ন পণ্যের বিক্রেতারাও একই অভিযোগ করেন। তারা জানান, ইজারা ব্যবস্থায় এত বেশি খাজনা দিতে হতো না, কিন্তু এখন খাস আদায়ের নামে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে।
বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, বহিরাগত লোক দিয়ে খাস আদায় করিয়ে নামমাত্র রাজস্ব দেখিয়ে বাকি টাকা ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টরা ভাগ করে নিচ্ছেন।
খাস আদায়ের দায়িত্ব কারা পালন করছেন—এ বিষয়ে বহরপুর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার কর্মকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সুমন নামে একজনকে দায়িত্ব দেওয়ার কথা জানান। তবে সুমনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি খাস আদায়ের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরে আবার ভূমি কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, সুমনের দায়িত্ব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিয়েছেন।
অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের বিষয়ে জানতে প্রতিবেদক ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গেলে প্রশ্নের কোনো জবাব না দিয়ে ভূমি কর্মকর্তা অফিস ত্যাগ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, খাস আদায়ের নির্দিষ্ট কোনো হার নেই, ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা যেভাবে কালেকশন করেন সেভাবেই হয়ে থাকে। বহিরাগতদের দায়িত্ব দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, তিনি শুধু ভূমি কর্মকর্তাকেই দায়িত্ব দিয়েছেন।
পরবর্তীতে খাস আদায়ের তথ্য জানতে চাইলে প্রথমে ভূমি অফিস তা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে বিষয়টি উপজেলা ভূমি কর্মকর্তাকে জানানো হলে একটি রেজিস্টার খাতা দেখানো হয়। সেখানে দেখা যায়, প্রতি হাটে ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত খাস আদায়ের তথ্য রয়েছে। খাস আদায়কারীর নাম হিসেবে সুমন ও জুয়েল উল্লেখ থাকলেও তারা দুজনই বহিরাগত এবং হাট বা ভূমি অফিসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নন বলে জানা গেছে।