
(৯ মাস আগে) ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ৪:৪৫ অপরাহ্ন
বরিশালের হিজলা উপজেলার মেমানিয়া ইউনিয়নের ছোট লক্ষীপুর গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে ১৩ জন নিরীহ চাষিকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, দীর্ঘদিনের জমি বিরোধের জের ধরেই এই মামলা করা হয়েছে।
জানা যায়, গত ২০ জানুয়ারি আমির হোসেন গাজী বাদী হয়ে হিজলা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, জমি সংক্রান্ত সংঘর্ষে একজনকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে।
সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা যায়, আব্দুল হাকিম গাজী গং ও আব্দুল গনি গাজী গং প্রায় ৪০ বছর ধরে ছোট লক্ষীপুর মৌজায় প্রায় ২১ একর পৈত্রিক জমি ভোগদখল করে আসছেন। ওই জমির মালিকানা দাবি করে আমির হোসেন গাজী আদালতে মামলা করেছেন, যা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার দিন সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে আমির হোসেন গাজী ৫০-৬০ জন লোক ও চারটি ট্রাক্টর নিয়ে ওই জমিতে সয়াবিন চাষ করতে যান। এ সময় দ্রুতগতিতে ট্রাক্টর চালানোর ফলে একটি ট্রাক্টর উল্টে গিয়ে চালক ছিটকে পড়েন এবং ধারালো ব্লেডে তার পায়ে গুরুতর আঘাত লাগে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
ঘটনার কয়েকদিন পর চাষিরা জানতে পারেন, তাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শী আলমগীর হাওলাদারের স্ত্রী সেলিনা বেগম বলেন, “ঘটনার দিন কোনো মারামারি হয়নি। একসঙ্গে কয়েকটি ট্রাক্টর দ্রুত চালানোর কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটে। প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর জন্যই এই মামলা করা হয়েছে।”
তবে মামলার বাদীপক্ষের আনোয়ার হোসেন দাবি করেন, আমির হোসেন গাজী লক্ষীপুর মৌজার ২১ একর পৈতৃক সম্পত্তির মালিক। ওই জমি হাকিম গাজী গং ও গনি গাজী গং জোরপূর্বক দখলে রেখেছে। ঘটনার দিন জমিতে চাষ করতে গেলে প্রতিপক্ষ ধাওয়া দিলে ট্রাক্টর চালক গুরুতর আহত হন।
এ বিষয়ে হিজলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আদিল হোসেন বলেন, “জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে একজনকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।”
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।