
(৫ মাস আগে) ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, শুক্রবার, ১:৫৯ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ আপডেট: ৩:১২ পূর্বাহ্ন
দীর্ঘ ২১ বছরের আইনি লড়াই শেষে টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে ২০০৫ সালের ভয়াবহ বিস্ফোরণ-ঘটনায় আন্তর্জাতিক আদালত বাংলাদেশের পক্ষে রায় ঘোষণা করেছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক আন্তর্জাতিক সালিশি ট্রাইব্যুনাল ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর সেটেলমেন্ট অব ইনভেস্টমেন্ট ডিসপিউটস (ICSID) কানাডিয়ান কোম্পানি নাইকো রিসোর্সেস (Niko Resources)-কে বাংলাদেশকে ৪২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫১০–৫১৬ কোটি টাকা) ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
কি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে?
আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নাইকো কোম্পানির ত্রুটিপূর্ণ ও আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা বিধি অমান্য করে চালানো কাজের ফলে ২০০৫ সালে টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে দৃশ্যমান ক্ষতি, পরিবেশ দূষণ ও বিপুল পরিমাণ গ্যাস নষ্ট হয়েছে। বিচারাধীন মামলায় ক্ষতিপূরণের হিসাব করা হয়েছে মোট ৪২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার যার মধ্যে:
প্রায় ৪০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ বিলিয়ন কিউবিক ফুট গ্যাস পুড়ে নষ্ট হওয়া ও বিদেশি সম্পদধ্বংসের জন্য, এবং প্রায় ২ মিলিয়ন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে পরিবেশ ও অন্যান্য ক্ষতির জন্য। 
বাংলাদেশি মুদ্রায় এই ক্ষতিপূরণের মোট মূল্য প্রায় ৫১৩ কোটি টাকা হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
আইনি লড়াই ও দাবি
বাংলাদেশ ডিকেডস ধরে আন্তর্জাতিক আদালতে দাবি করেছে যে বিস্ফোরণের ফলে শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়নি, বরং পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যেও দীর্ঘমেয়াদি বিরূপ প্রভাব পড়েছে। সরকার ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলা ও বিএপেক্স এই মামলায় মোট প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার (১০১৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছিল। তবে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল তুলনামূলক কম অর্থমাত্র ৪২ মিলিয়ন ডলারই ক্ষতিপূরণের হিসেবে নির্ধারণ করেছে।
সরকার ও সংশ্লিষ্টদের মন্তব্য
পেট্রোবাংলা চেয়ারম্যান এবং জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং বলেছেন, এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জন্য একটি বড় আন্তর্জাতিক আইনি জয়ের দৃষ্টান্ত। ক্ষতিপূরণ গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করতে সরকার দ্রুত পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেবে বলেও জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় প্রভাব
২০০৫ সালের এই বিস্ফোরণে সুনামগঞ্জের ছাতক এলাকার টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রের বহু গ্যাসশীল সম্পদ ধ্বংস হয়েছিল এবং স্থানীয় পরিবেশ ও জনজীবনে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। আন্তর্জাতিক আদালতের রায় স্থানীয়দের মধ্যে আশা জাগিয়েছে যে ক্ষতিপূরণ থেকে পরিবেশ পুনরুদ্ধার ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে কিছু অর্থসংস্থান করা যাবে।