
(৩ বছর আগে) ১২ মার্চ ২০২৩, রবিবার, ১:৫২ অপরাহ্ন
সর্বশেষ আপডেট: ২:২৪ অপরাহ্ন
ঢাকা: ”নদী হবে প্রবাহমান, দখল ও দূষণ মুক্ত” এই স্লোগানকে সামনে রেখে টঙ্গীর তুরাগ তীরে ”আন্তর্জাতিক নদীকৃত্য দিবস-২০২৩” পালিত হয়েছে। নদীতে দূষণ মুক্ত পানি, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও নদীকে দখলদার মুক্ত করে কৃষি বান্ধব নদীর দাবি ছিল অনুষ্ঠানের বক্তাদের।
শনিবার (১১ মার্চ) বেলা ১০ টায় শুরু হয়ে ১.৩০ মিনিট পর্যন্ত চলে অনুষ্ঠানটি। ”বাংলাদেশ নদী বাঁচাও আন্দোলন” কমিটি ”নদী হবে প্রবাহমান, দখল ও দূষণ মুক্ত” এই স্লোগানকে সামনে রেখে দূষণ মুক্ত নদীর দাবিতে এ প্রতীকী অনশন করে টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে।
প্রতীকী অনশনের সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ নদী বাঁচাও আন্দোলনের কেন্দিয় কমিটির সভাপতি এ্যাডভোকেট আনওয়ার সাদাত। কলিমুল্লাহ ইকবালের আহবানে অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা আইয়ুব আলী, বাংলাদেশ নদী বাঁচাও আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির সেক্রেটারি, অন্যান্য সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতির বক্তব্যে এডভোকেট আনওয়ার সাদাত বলেন, ”এই যে আমরা তুরাগ নদীর পারে দাঁড়িয়ে আছি, আপনারা দেখেন এর রং কোম্পানির কেমিক্যাল দিয়ে পরিবর্তন করা হয়েছে, এই পানির কোন স্বাধ নেই, এর মধ্যে কোন মাছ বা কীট পতঙ্গ বেঁচে থাকতে পারে না। বর্ষা মৌসুম আসলে মনে হয় পানি ভাল হয়ে গেছে কিন্তু সিজন শেষ না হতেই আবার পানির অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। আমাদের প্রকৃতি ও তার উপাদান সমুহকে বাঁচাতে হলে অবশ্যই এখনি নদীকে বাঁচাতে হবে”।
টঙ্গীর তুরাগ তীরের প্রতীকী অনশনের আহবায়ক কলিমুল্লাহ ইকবাল বলেন, ”আমাদের জীবন যাত্রা, কৃষি, অর্থনীতি সব কিছু নদীর সাথে জরিত। কিন্তু দিনে দিনে নদী গুলো শুকিয়ে যাচ্ছে, পানির রং স্বাধ ও গন্ধ পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে, অবৈধ স্থাপনা তৈরি করে নদী দখল করে নিচ্ছে ভূমি দস্যুরা। এই নদী যে কোন মূল্যে আমাদের বাঁচাতে হবে। যদি নদী বেচে যায় তবে কৃষি বেঁচে যাবে, যদি কৃষি বেঁচে যায় তবে মানুষ বেঁচে যাবে আর মানুষ বাঁচলে দেশ বাঁচবে”।
অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা আইয়ুব আলী অবৈধ ভাবে ও অনৈতিকভাবে যারা নদী দখল করে বাড়ি ঘর ও দোকান পাঠ স্থাপন করছে সরকারের তত্বাবধানে তাদের উচ্ছেদ করে নদী দূষণ মুক্ত ও দখল মুক্ত করার দাবি জানান তিনি।
উল্লেখ্য, দেশে ৪৫০০০ (পয়তাল্লিশ) হাজারেরও বেশি অবৈধ নদী দখলদার চিহ্নিত কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে যথোপযুক্ত কোন আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না। বক্তারা দাবি করেন, প্রতিটি জেলায় জেলায় বাংলাদেশ নদী বাঁচাও আন্দোলন কমিটি বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করলেও এদের বিরুদ্ধে কোন উচ্ছেদ অভিযান বা সরকারের কার্যকর ভূমিকা দেখতে পাননি বলে দাবি করেন তারা।