
(৬ মাস আগে) ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, সোমবার, ১১:৫৯ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ আপডেট: ৪:০৩ পূর্বাহ্ন
সংগৃহীত
উত্তরের জনপদে ভোট এলেই আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে তিস্তা। কৃষক, রিকশাচালক, দোকানি কিংবা দিনমজুর যার কাছেই তিস্তা নিয়ে কথা বলা হোক না কেন, সবার কণ্ঠে একই প্রত্যাশা। তাদের ভাষায়, মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে তিস্তাপাড়ে সত্যিকারের সুখ আসবে।
তিস্তা যেন শুধু ভাঙেই। শীত মৌসুমেও থামছে না নদীভাঙন। গত মাসখানেক ধরে লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী উপজেলার মহিষখোঁচা ইউনিয়নের দক্ষিণ বালা পাড়া গ্রামের সামনের চরে নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে। গ্রামবাসীর আশঙ্কা, আর পাঁচ-সাত দিনের মধ্যেই তিস্তার ভাঙন গ্রামে ঢুকে পড়তে পারে।
গত শনিবার সকালে দক্ষিণ বালা পাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে বয়ে যাওয়া তিস্তার মূল স্রোত গ্রামের দিকে সামান্য ঝুঁকে পড়েছে। এই সামান্য পরিবর্তনেই ফসলের মাঠ ও চর একের পর এক নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। নদীর ধারে দাঁড়ালেই চোখে পড়ে বালুর চর ভেঙে পড়ার দৃশ্য। সেচযন্ত্রের (শ্যালো মেশিন) একটানা শব্দের মাঝেই কানে আসে ‘ঝপ ঝপ’ করে চরের ভাঙনের আওয়াজ।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, প্রতিবছর ভাঙনের ভয়ে তাদের ঘুম হারাম হয়ে যায়। কখন ঘরবাড়ি, কখন ফসলি জমি নদীতে চলে যায় এই আতঙ্ক নিয়েই বাঁচতে হচ্ছে। দক্ষিণ বালা পাড়া শুধু একটি গ্রাম নয়, তিস্তার দুই তীরের শত শত গ্রামের একই দশা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে তিস্তা নিয়ে আশ্বাস শোনা গেলেও কার্যকর সমাধান হয়নি। নদী শাসন, ভাঙন রোধ ও পানিবণ্টন সব মিলিয়ে একটি সমন্বিত মহাপরিকল্পনার দাবিই এখন ভোটারদের প্রধান চাওয়া।
আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে তিস্তাপাড়ের মানুষের কণ্ঠে তাই স্পষ্ট বার্তা যে দল তিস্তার স্থায়ী সমাধান দেবে, ভোটও যাবে তাদের দিকেই।