
(৮ মাস আগে) ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বুধবার, ৮:৪৬ অপরাহ্ন
আগামীকাল অনুষ্ঠিত হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সারা দেশের মতো কুষ্টিয়া জেলাতেও ছড়িয়ে পড়েছে ভোটের উত্তাপ। গ্রাম থেকে শহর—সবখানেই বইছে নির্বাচনী হাওয়া। চারপাশে টান টান উত্তেজনা। চায়ের দোকানের আড্ডা থেকে শুরু করে হাট-বাজার—সবখানেই এখন একটাই আলোচনা: কুষ্টিয়ার চারটি সংসদীয় আসনের ভবিষ্যৎ।
সাধারণত নির্বাচনের আগমুহূর্তে কিছুটা হলেও বোঝা যায় কোন পালে বাতাস বেশি। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। কুষ্টিয়াকে বরাবরই বিএনপির শক্ত ঘাঁটি বলা হয়। বহু চড়াই-উতরাই পেরিয়েও ধানের শীষের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থার জায়গাটা কেউ ভাঙতে পারেনি। তবে এবার গল্পে এসেছে নতুন মোড়। ভোটারদের কথাবার্তায় স্পষ্ট—লড়াইটা আর একতরফা নয়। এতদিন ছায়ার মতো পাশে থাকা জামায়াত এবার যেন বিএনপির ঘাড়ে তপ্ত নিঃশ্বাস ফেলছে।
চারটি আসনেই লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি—যাকে বলে একেবারে ‘সেয়ানে সেয়ানে কোলাকুলি’। সাধারণ মানুষের চোখেমুখে কৌতূহল আর উত্তেজনা। বাজারের সবজি বিক্রেতা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া তরুণ—সবার মধ্যেই চাপা উত্তাপ। কেউ বলছে, “এবার খেলা হবে অন্যরকম”, কেউ আবার দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলছে, “পুরনো চাল ভাতে বাড়ে।”
এবার এক নজরে কুষ্টিয়া জেলার চারটি আসনের চিত্র—
কুষ্টিয়া–১ (দৌলতপুর)
ভোটার: ৪,০৪,৫০৪ জন
এই আসনটি বরাবরই বিএনপির শক্ত ঘাঁটি। স্বাধীনতার পর এখানে ধানের শীষ চারবার জয়ী হয়েছে। সাধারণ মানুষের মুখে ঘুরছে সাবেক এমপি রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লার নাম। অনেকে মনে করছেন তিনি ভোটের হিসেবে এগিয়ে।
তবে জামায়াত প্রার্থী উপাধ্যক্ষ বেলাল হোসেন গত এক বছর ধরে নীরবে কিন্তু কার্যকর প্রচারণা চালাচ্ছেন। ঘরে ঘরে গিয়ে ভোট চাইছেন। এই নিঃশব্দ প্রচারণা শেষ মুহূর্তে বড় ঢেউ তুলতে পারে।
এদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী নুরুজ্জামান হাবলু মোল্লা ‘বিদ্রোহী’ হয়ে দাঁড়ানোয় ভোট কাটার আশঙ্কাও আছে। শেষ পর্যন্ত কার কপালে জয়ের তিলক—তা নির্ভর করছে ভোটারদের মনের অজানা সমীকরণের ওপর।
কুষ্টিয়া–২ (মিরপুর–ভেড়ামারা)
ভোটার: প্রায় ৪,৭৮,০০০ জন
ঐতিহাসিকভাবে বিএনপির ঘাঁটি হলেও এখানে জামায়াতের সাংগঠনিক ভিত্তি এখন বেশ মজবুত। ১৯৮৬ সালে জামায়াত এখান থেকে জয়ী হয়েছিল। এবার জামায়াতের প্রার্থী জেলা নায়েবে আমির আব্দুল গফুর। ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তার বড় শক্তি।
অন্যদিকে বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছে নতুন মুখ ব্যারিস্টার রাগিব রউফ চৌধুরীকে। শুরুতে দলের ভেতরে কিছু মনোমালিন্য থাকলেও এখন প্রবীণ-নবীনের সমঝোতায় ঐক্য তৈরি হয়েছে।
ফলে এখানে বিএনপি কিছুটা সুবিধাজনক হলেও জামায়াতের জনপ্রিয় প্রার্থীর কারণে লড়াই হবে কঠিন ও হাড্ডাহাড্ডি।
কুষ্টিয়া–৩ (সদর)
ভোটার: ৪,৪০,৬০০ জন
এই আসনে বিএনপি চারবার জয়ী হয়েছে। জামায়াত আগে এমপি না পেলেও সাম্প্রতিক উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় তারা আত্মবিশ্বাসী।
বিএনপির প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকারের সক্রিয় প্রচারণা সাধারণ ভোটারদের মধ্যে সাড়া ফেলেছে। অন্যদিকে জামায়াত প্রার্থী মুফতি আমির হামজার শোডাউন, নারী-পুরুষের পৃথক মিছিল ও টানা প্রচারণা পুরো এলাকায় আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
দীর্ঘদিনের দখল ধরে রাখতে বিএনপি যেমন মরিয়া, তেমনি জামায়াতও এখানে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
কুষ্টিয়া–৪ (খোকসা–কুমারখালী)
ভোটার: ৪,২৪,৪১৭ জন
এই আসনেও মূল লড়াই বিএনপি বনাম জামায়াত। বিএনপির প্রার্থী সাবেক এমপি ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মেহেদী আহম্মেদ রুমী। অভিজ্ঞতা ও দলীয় ঐতিহ্য তাকে এগিয়ে রাখছে।
জামায়াত প্রার্থী মো. আফজাল হোসেন নতুন মুখ হলেও দলীয় সংহতি তার বড় শক্তি। স্থানীয়দের মতে, এলাকার বড় কারিগর সম্প্রদায়ের একটি অংশ এবার জামায়াতের দিকে ঝুঁকতে পারে।
এখানেও শেষ পর্যন্ত লড়াইটা হবে দুই মেরুর মধ্যেই।