
(৮ মাস আগে) ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, মঙ্গলবার, ৭:৪৭ অপরাহ্ন
বনদস্যুরা সুন্দরবন সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের পৃথক দুটি স্থানে জেলে বহরে হানা দিয়ে ২০ জন জেলেকে অপহরণ করেছে। সুন্দরবন সংলগ্ন সাগরের নারিকেলবাড়ীয়া ও আমবাড়ীয়ার খাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। দস্যুদের বেপরোয়া তৎপরতায় জেলেদের মধ্যে চরম আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
পূর্ব সুন্দরবনের জেলেপল্লী দুবলা ফরেস্ট টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ফরেস্ট রেঞ্জার) মিল্টন রায় মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে অজ্ঞাত পরিচয়ের বনদস্যুরা দুবলারের নারিকেলবাড়ীয়া চর সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরারত জেলে বহরে হামলা চালায়। এ সময় ৮টি ট্রলার থেকে ৮ জন জেলেকে তুলে নিয়ে যায় দস্যুরা। অপহৃতরা হলেন— হরিদাস বিশ্বাস (৫০), গোপাল বিশ্বাস (৪৫), রমেশ বিশ্বাস (৫০), প্রশান্ত বিশ্বাস (৪৮), শংকর বিশ্বাস (৩৫), তুষার বিশ্বাস (৪০), মনিরুল বিশ্বাস (৪৮) ও উজ্জ্বল কুমার বিশ্বাস (৪৫)। তাদের বাড়ি খুলনার পাইকগাছা এলাকায়।
এছাড়া একই রাতে দুবলাচর সংলগ্ন আমবাড়ীয়ার খাড়ি এলাকায় বনদস্যু সুমন–জাহাঙ্গীর বাহিনী অস্ত্রের মুখে ১২টি ট্রলার থেকে আরও ১২ জেলেকে অপহরণ করে নিয়ে যায় বলে জানিয়েছেন দুবলা ফিসারমেন গ্রুপের সভাপতি মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ। অপহৃতরা হলেন— কালিদাস বিশ্বাস, কাশেম মোড়ল, সাধন বিশ্বাস, শিবপদ বিশ্বাস, রশিদ সরদার, প্রকাশ বিশ্বাস, ইয়াসিন মোড়ল, শিমুল, রূপ কুমার বিশ্বাস, গণেশ বিশ্বাস, উত্তম বিশ্বাস ও বাটু বিশ্বাস। তাদের বাড়ি পাইকগাছা, কয়রা ও আশাশুনি এলাকায়।
দুবলা ফিসারমেন গ্রুপের সভাপতি জানান, বর্তমানে অন্তত চারটি বনদস্যু গ্রুপ সুন্দরবন ও সাগরে তৎপর রয়েছে। দস্যুদের দৌরাত্ম্যে জেলেদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে অনেকেই পেশা ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবছেন।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম ২০ জেলে অপহরণের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, জেলেদের নিরাপত্তায় বনরক্ষীদের টহল কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।