banglahour

ফরিদপুরে হাটবাজার টেন্ডার নিয়ন্ত্রণে বিএনপি, দরপত্র জমায় বাধার অভিযোগ

সারাদেশ | ফরিদপুর প্রতিনিধি।

(৮ মাস আগে) ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, মঙ্গলবার, ৭:৪৮ অপরাহ্ন

ফরিদপুর পৌরসভার হাটবাজার ইজারা টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ উঠেছে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। উন্মুক্ত দরপত্র জমা দেওয়ার সময় একাধিক দরপত্রদাতাকে বাধা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় সকাল থেকে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত ফরিদপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয় ও পৌরসভা কার্যালয়ের সামনে দলীয় নেতাকর্মীরা অবস্থান নেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এ ঘটনা ঘটে।


পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুর পৌরসভা এলাকার ১৫টি হাটবাজার ও পৌর বাস টার্মিনালের বার্ষিক ইজারার লক্ষ্যে গত ১৮ জানুয়ারি দরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। পরবর্তীতে ২ ফেব্রুয়ারি সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী দরপত্র বিক্রয় ও জমার শেষ সময় নির্ধারিত ছিল সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) ও মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১টা পর্যন্ত। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ৪১টি দরপত্র জমা পড়ে এবং বিকেল ৩টায় তা উন্মুক্ত করা হয়। দরপত্র জমার জন্য জেলা প্রশাসক কার্যালয় ও পৌরসভা কার্যালয়ে পৃথক দুটি বুথ স্থাপন করা হয়।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বঞ্চিত ঠিকাদার ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল থেকেই দুই বুথের আশপাশে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলসহ অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অবস্থান নেন। জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বরে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব গোলাম মোস্তফা মিরাজ এবং পৌরসভা কার্যালয়ে জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন অবস্থান করছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়। কেউ দরপত্র জমা দিতে এলে গেট থেকেই বাধা দেওয়া হয় বলেও দাবি করা হয়েছে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এক পর্যায়ে দরপত্র জমা দিতে না পেরে কয়েকজন ফিরে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।


দরপত্র জমা দিতে না পারা ঠিকাদার আনিসুজ্জামান তুহিন অভিযোগ করে বলেন, “দরপত্র জমা দেওয়ার শুরু থেকেই দুই বুথের সামনে ও আশপাশে বাধা দেওয়া হয়েছে। উন্মুক্তভাবে সবাই অংশ নিতে পারলে আরও অনেকে টেন্ডারে অংশগ্রহণ করতে পারতেন এবং প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা থাকত।” তবে কারা বাধা দিয়েছেন সে বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে চাননি।


ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আলাউদ্দিন ট্রেডিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, “দুপুর একটার আগে টেপাখোলা গরুর হাটের দরপত্র জমা দিতে গিয়ে দেখি প্রচুর ভিড়। অফিসের প্রবেশপথে শতাধিক ব্যক্তি অবস্থান করছিলেন। পরিবেশ দেখে অস্বস্তি বোধ করে জমা না দিয়েই ফিরে আসি।


অভিযোগের বিষয়ে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব গোলাম মোস্তফা মিরাজ বলেন, “আমি দুপুর সাড়ে ১২টায় নিজের কেনা দরপত্র জমা দিতে গিয়েছিলাম। ভিড়ের মধ্যে আমিই ঠিকমতো জমা দিতে পারছিলাম না। ডিসি অফিসে আমি যাওয়ার আগে কিছু হয়েছে কি না জানি না। তবে আমি যাওয়ার পর সবাইকে দরপত্র জমা দিতে বলেছি। পৌরসভা কার্যালয়ের বিষয়ে কিছু বলতে পারব না।”
জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “নিজের একটি দরপত্র জমা দিতে পৌরসভায় গিয়েছিলাম। কাউকে বাধা দেওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি।


এ বিষয়ে পৌর প্রশাসক ও স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. সোহরাব হোসেন বলেন, “সকাল থেকে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত সবাই দরপত্র জমা দিয়েছেন, কোনো বাধার অভিযোগ পাইনি। নির্ধারিত সময়ের পর একদল জমা দিতে এলে তাদেরটি নেওয়া হয়নি। সকল নিয়ম মেনেই স্বচ্ছভাবে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।”

উপদেষ্টা সম্পাদকঃ হোসনে আরা বেগম
নির্বাহী সম্পাদকঃ মাইনুল ইসলাম
ফোন: +৮৮০১৬৭৪০৬২০২৩
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম
ফোন: +৮৮ ০১৭ ১২৭৯ ৮৪৪৯
অফিস: ৩৯২, ডি আই টি রোড (বাংলাদেশ টেলিভিশনের বিপরীতে),পশ্চিম রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।
যোগাযোগ: তাহিরুল ইসলাম, ০১৭৭৮০০৪৭০০ contact@banglahour.com
অফিসিয়াল মেইলঃ banglahour@gmail.com
banglahour
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল