
(৮ মাস আগে) ১ মার্চ ২০২৬, রবিবার, ১:৪৬ অপরাহ্ন
রাজধানীতে খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের চাঞ্চল্যকর ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করে একজনকে গ্রেফতার করেছে পল্টন মডেল থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃতের নাম শাহিন আলম (২১)।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে পল্টন থানা এলাকার একটি কমিউনিটি সেন্টারের বিপরীত পাশ থেকে নিহতের খণ্ডিত একটি পা উদ্ধার করা হয়। পরে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বায়তুল মোকাররম স্টেডিয়াম সংলগ্ন গেটের পাশ থেকে দুটি পূর্ণাঙ্গ হাত এবং দুপুর ২টার দিকে কমলাপুর রেলস্টেশন এলাকা থেকে আরেকটি পা উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার পরপরই পুলিশ পেশাদারিত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করে। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সন্দেহভাজনের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ৩টার দিকে মতিঝিল থানাধীন হীরাঝিল হোটেলের সামনে অভিযান চালিয়ে শাহিনকে গ্রেফতার করা হয়।
তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কবি জসীমউদ্দীন রোডের একটি ভাড়া বাসা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাপাতি, ভিকটিমের মোবাইল ফোন ও লাশ পরিবহনে ব্যবহৃত একটি সাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। পরে শনিবার রাত ১১টার দিকে মাতুয়াইল ময়লার ভাগাড় থেকে খণ্ডিত মস্তক এবং রোববার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আমিনবাজারের সালেহপুর ব্রিজের নিচ থেকে কোমরের একটি অংশ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার কার্যক্রম এখনো অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত মো. ওবায়দুল্লাহ (৩০) রাজধানীর একটি হোমিও ক্লিনিকের মার্কেটিং বিভাগে কর্মরত ছিলেন। গ্রেফতারকৃত শাহিন আলম তিন মাস আগে হবিগঞ্জ থেকে ঢাকায় এসে প্রথমে গুলিস্তানের একটি হোটেলে চাকরি নেন। পরে কমলাপুর এলাকায় পরিচিত এক বন্ধুর বাসায় ওঠেন এবং গত দুই মাস ধরে ভিকটিমের সঙ্গে বসবাস করছিলেন। সম্প্রতি তিনি হীরাঝিল হোটেলে কাজ শুরু করেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, ঘটনার দিন রাতে ব্যক্তিগত বিরোধ ও তর্কাতর্কির জেরে ক্ষিপ্ত হয়ে শাহিন রান্নাঘর থেকে চাপাতি এনে ওবায়দুল্লাহকে আঘাত করে হত্যা করে। পরে নিজের পরিচয় গোপন ও শনাক্ত এড়াতে মরদেহ খণ্ড খণ্ড করে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেয়।
চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং গ্রেফতারকৃতের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছে পুলিশ।