
(৮ মাস আগে) ৭ মার্চ ২০২৬, শনিবার, ১:৫৪ অপরাহ্ন
গ্রামের মেঠোপথ, ঝোপঝাড় ও পুকুরপাড়ে অযত্নে বেড়ে ওঠা ভাঁট ফুল বসন্তের প্রকৃতিতে ছড়িয়ে দিচ্ছে অপূর্ব সৌন্দর্য। ফাল্গুনের মৃদু বাতাসে দুলতে থাকা সাদা-শুভ্র ভাঁট ফুল যেন প্রকৃতিকে সাজিয়েছে এক অনন্য রূপে। ফুলের চারপাশে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত মৌমাছির দল, যা প্রকৃতিপ্রেমীদের দৃষ্টি কাড়ছে।
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে এখন এই ভাঁট ফুলের দেখা মিলছে। উপজেলার মেঠোপথ, রাস্তার দুই ধারে, পুকুরপাড় ও ঝোপঝাড়ে প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নিয়ে থোকা থোকা ফুলে ভরে উঠেছে ভাঁট গাছ। নীরবে সৌন্দর্য বিলিয়ে দেওয়া এই ফুল দেখে অনেক পথিকই থমকে দাঁড়িয়ে উপভোগ করছেন প্রকৃতির অপূর্ব দৃশ্য।
ভাঁট গাছের প্রধান কাণ্ড সোজাভাবে দণ্ডায়মান থাকে এবং সাধারণত ২ থেকে ৪ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। গাছের পাতা কিছুটা পানপাতার আকৃতির এবং খসখসে ধরনের। ডালের শীর্ষে পুষ্পদণ্ডে ফুটে ওঠে সাদা রঙের ফুল, যার মাঝে হালকা বেগুনি আভা থাকে। বসন্ত থেকে গ্রীষ্মকাল পর্যন্ত এ ফুল ফোটে। এর রয়েছে মিষ্টি সৌরভ, বিশেষ করে রাতে ফুলের সুঘ্রাণ আরও বেশি ছড়িয়ে পড়ে।
ফুল ফোটার পর মৌমাছিরা ভাঁট ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে। ফলে প্রকৃতির পাশাপাশি মৌচাষের ক্ষেত্রেও এ ফুল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের চর ঝাকালিয়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মালেক বলেন, “একসময় এলাকায় ভাঁট ফুল আরও বেশি দেখা যেত। এখন ফুলের মৌসুমে যখন ফুটে ওঠে, তখন খুবই সুন্দর লাগে। কাছ থেকে দেখলে মন ভরে যায়।
একই এলাকার ফজলুর রহমান বলেন, “ভাঁট ফুল দেখতে যেমন সুন্দর, তেমনি এর রয়েছে নানা ঔষধি গুণ। গ্রামাঞ্চলে বিভিন্ন কাজে এটি ব্যবহার করা হয়।”
প্রকৃতির এই নীরব সৌন্দর্য বসন্তে কটিয়াদীর গ্রামীণ পরিবেশকে করে তুলেছে আরও মনোমুগ্ধকর। ????