
(৪ মাস আগে) ১৩ মার্চ ২০২৬, শুক্রবার, ১:০২ অপরাহ্ন
আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাজধানী ঢাকায় শুরু হতে যাচ্ছে বছরের অন্যতম বড় গণযাত্রা। এ সময় প্রায় দেড় কোটির বেশি মানুষ ঢাকা ছেড়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় ফিরবেন। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় ৪০ লাখ মানুষ ঢাকায় প্রবেশ করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই বিপুলসংখ্যক মানুষের যাতায়াতকে নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
বৃহস্পতিবার ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঈদযাত্রাকে স্বস্তিদায়ক করতে আগামী ১৭ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত মহাসড়কে ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও লরি চলাচল বন্ধ থাকবে। তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য, পচনশীল দ্রব্য, পোশাকসামগ্রী, ওষুধ, সার এবং জ্বালানি বহনকারী যানবাহন এই নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে থাকবে।
এ ছাড়া ১৬ মার্চ থেকে ঈদযাত্রা সংশ্লিষ্ট যানবাহনের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া রাজধানীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পরিহার করার আহ্বান জানিয়েছে ডিএমপি। এসব সড়কের মধ্যে রয়েছে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের কুড়িল থেকে আবদুল্লাহপুর অংশ, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গুলিস্তান থেকে সাইনবোর্ড অংশ, ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক বা মিরপুর রোডের আড়ং ক্রসিং থেকে আমিনবাজার অংশ এবং ঢাকা-কেরানীগঞ্জ সড়কের ফুলবাড়িয়া থেকে তাঁতিবাজার হয়ে বাবুবাজার ব্রিজ পর্যন্ত এলাকা। এছাড়া ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের গুলিস্তান থেকে বুড়িগঙ্গা ব্রিজ অংশ, মোহাম্মদপুর বছিলা ক্রসিং থেকে বছিলা ব্রিজ, আবদুল্লাহপুর থেকে ধউর ব্রিজ এবং ফুলবাড়িয়া থেকে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল সড়কও এই তালিকায় রয়েছে।
গণপরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের জন্যও বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে ডিএমপি। আন্তজেলা বাসগুলোকে টার্মিনালের ভেতর থেকেই যাত্রী উঠিয়ে সরাসরি গন্তব্যে যেতে হবে এবং কোনো অবস্থাতেই প্রধান সড়কে বাস দাঁড় করানো যাবে না। অনুমোদিত কাউন্টার বা স্টপেজ ছাড়া মাঝপথে যাত্রী ওঠানো-নামানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে রাজধানীতে প্রবেশের প্রধান সড়কগুলোতে বাস পার্কিং না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন (বিআরটিসি) বাস চলাচলের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ডিপো থেকে বাস ছাড়ার পর সেগুলোকে সরাসরি নির্ধারিত জেলায় যেতে হবে। যেমন কল্যাণপুর ও গাবতলী ডিপোর বাস যাবে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের দিকে, আর ফুলবাড়িয়া ও কমলাপুর ডিপোর বাস চলাচল করবে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের উদ্দেশে। যাত্রীদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার বেশি আদায় করা যাবে না এবং একই সিটের টিকিট একাধিক যাত্রীর কাছে বিক্রি করা দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। অতিরিক্ত যাত্রী বহন বা বাসের ছাদে যাত্রী তোলাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
নিরাপদ ড্রাইভ নিশ্চিত করতে চালকদের নির্ধারিত গতিসীমা মেনে গাড়ি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বাঁক, সরু সেতু ও ওভারটেকিং নিষিদ্ধ এলাকায় ওভারটেক না করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করে বা শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে গাড়ি চালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ও হালনাগাদ কাগজপত্র ছাড়া কোনো যানবাহন চালানো যাবে না এবং গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন বা হেডফোন ব্যবহারও করা যাবে না। বাসে উচ্চস্বরে গান বাজানো কিংবা উল্টো পথে গাড়ি চালানোও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মালিকপক্ষ চালকদের একটানা পাঁচ ঘণ্টার বেশি এবং দিনে আট ঘণ্টার বেশি গাড়ি চালাতে বাধ্য করতে পারবে না বলেও জানানো হয়েছে।
যাত্রী ও পথচারীদের প্রতিও কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছে ডিএমপি। নির্দিষ্ট টার্মিনাল বা কাউন্টার থেকে বাসে ওঠা, অপরিচিত কারও দেওয়া খাবার বা পানীয় গ্রহণ না করা এবং নিজের মালামাল সতর্কতার সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যাত্রার নির্ধারিত সময়ের আগেই টার্মিনালে উপস্থিত হতে এবং রাস্তা পারাপারের সময় ফুটওভার ব্রিজ, আন্ডারপাস বা জেব্রা ক্রসিং ব্যবহারের আহ্বান জানানো হয়েছে। কোনো প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট টার্মিনালের পুলিশ কন্ট্রোল রুম অথবা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
সবশেষে ডিএমপি জানিয়েছে, আসন্ন ঈদযাত্রাকে নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক করতে যানবাহনের মালিক, চালক, যাত্রী এবং নগরবাসীর সম্মিলিত সহযোগিতাই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।