
(৭ মাস আগে) ২২ মার্চ ২০২৬, রবিবার, ১১:২২ পূর্বাহ্ন
ঈদের আনন্দ শেষ না হতেই কুমিল্লায় ট্রেন ও বাসের সংঘর্ষে মর্মান্তিক এক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১২ জন। ভোরের আলো ফোটার আগেই ঘটে যাওয়া এ দুর্ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে স্থানীয় মানুষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। উদ্ধার করা হয় হতাহতদের। দুর্ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য ব্যাহত হয় রেল চলাচল। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক ও হাইওয়ে পুলিশের কর্মকর্তারা।
তখন ভোর। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে নোয়াখালী যাচ্ছিল ‘মামুন পরিবহন’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাস। কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি মেইল ট্রেনও একই ক্রসিং অতিক্রম করছিল। ঠিক তখনই ঘটে ভয়াবহ সংঘর্ষ। ট্রেনটি বাসটিকে ধাক্কা দিয়ে বহুদূর টেনে নিয়ে গিয়ে থামে।
সংঘর্ষের পরপরই চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে যাত্রীদের আর্তচিৎকার। স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে উদ্ধার কাজে অংশ নেয়। এ সময় ঘটনাস্থলেই ৩ জন নিহত হন। গুরুতর আহত অন্তত ১৫ জনকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে আরও ৯ জনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ৭ জন পুরুষ, ২ জন শিশু ও ৩ জন নারী।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সেনাবাহিনী, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও রেড ক্রিসেন্টের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ চালায়।
দুর্ঘটনার পর প্রায় তিন ঘণ্টা ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে ট্রেন চলাচল ব্যাহত থাকে।
উদ্ধার কাজে অংশ নেওয়া ফায়ার সার্ভিস জানায়, ট্রেনের ইঞ্জিনের সঙ্গে বাসটি আটকে গিয়ে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে গিয়ে থামে। এতে বাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ৯ জন মারা যান।
এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক ও হাইওয়ে পুলিশের কর্মকর্তারা। জেলা প্রশাসক মোঃ রেজা হাসান জানিয়েছেন, এ ঘটনায় রেলওয়ে ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং প্রকৃত কারণ উদঘাটনে কাজ করা হবে।