banglahour

ব্যক্তিগত আক্রমণ ও রাজনীতির ঊর্ধ্বে সত্য: বাবার সম্মানে সরব মির্জা-কন্যা শামারুহ

সারাদেশ | এমদাদুল ইসলাম ভূট্টো। ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি।

(৫ মাস আগে) ২৯ মার্চ ২০২৬, রবিবার, ৪:১৩ অপরাহ্ন


দেশের রাজনীতির উত্তাল প্রেক্ষাপটে প্রায়ই ব্যক্তি ও পরিবারকে টেনে আনার এক নেতিবাচক সংস্কৃতি দেখা যায়।

সম্প্রতি এই সংস্কৃতির শিকার হয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং তাঁর পূর্বসূরীরা। তবে এবার নীরবতা ভেঙে কলম ধরেছেন তাঁর বড় মেয়ে, পেশায় চিকিৎসক ডক্টর শামারুহ মির্জা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি দিয়েছেন সমালোচকদের জবাব, তুলে ধরেছেন পরিবারের গৌরবোজ্জ্বল ও ত্যাগী ইতিহাস।

​শামারুহ মির্জা তাঁর লেখায় অভিযোগ করেন যে, বিশেষ করে বাংলাদেশের জাতীয় দিবসগুলো এলে কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী তাঁর বাবা ও দাদাকে নিয়ে ভিত্তিহীন ও নিচু রুচির বিতর্কে মেতে ওঠে। এর কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন তাঁর বাবার রাজনৈতিক দর্শন। তাঁর মতে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সবসময়ই পপুলিজম বা সস্তা জনপ্রিয়তার বিপরীতে দাঁড়িয়ে সত্য কথা বলতে দ্বিধা করেননি। ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বাঙালির 'বাংলাদেশি' হয়ে ওঠার যে স্বাতন্ত্র্য, তা তিনি স্পষ্টভাবে বলে এসেছেন।
​মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও ঠাকুরগাঁওয়ের উত্তাল দিন
​পোস্টে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের একটি ঐতিহাসিক মুহূর্তের বর্ণনা দেন শামারুহ। তিনি জানান, ১৯৭১-এর সেই অগ্নিঝরা দিনে ঠাকুরগাঁও পুলিশ স্টেশনে পাকিস্তানি পতাকা নামিয়েছিলেন তাঁর বাবা মির্জা আলমগীর (মির্জা ফখরুল)।

বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেছিলেন বজলার চাচা।
​এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে শামারুহের দাদা মির্জা রুহুল আমিন তাঁর পুরো পরিবার নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ইসলামপুরে চলে যেতে বাধ্য হন। সেখানে একটি ভাড়া বাসায় অতি সাধারণ জীবনযাপন শেষে ডিসেম্বরে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তাঁরা ফিরে আসেন।


​বিজয়ী জনপ্রতিনিধি মির্জা রুহুল আমিন
​দাদার রাজনৈতিক জীবনের সফলতার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, ১৯৭৫ সালে মির্জা রুহুল আমিন ঠাকুরগাঁও পৌরসভা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরবর্তী জীবনে সংসদ সদস্য বা স্থানীয় নির্বাচন—কোনও ভোটেই তিনি পরাজিত হননি। জনমানুষের প্রতি তাঁর এই দায়বদ্ধতাই মির্জা পরিবারের আসল শক্তি বলে শামারুহ দাবি করেন।


​"আমার এইচএসসি রেজাল্টের সময় দাদা সিএমএইচে (CMH) ক্যানসার আক্রান্ত অবস্থায় চিকিৎসাধীন ছিলেন। সেদিন আমার সফলতায় তাঁর যে আনন্দ ছিল, তা আজও অমলিন।" — ডক্টর শামারুহ মির্জা।

​রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিন্নতা থাকতেই পারে, কিন্তু স্বাধীনতা যুদ্ধ বা পারিবারিক ইতিহাস নিয়ে কাদা ছোঁড়াছুড়ি যে সুস্থ রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ নয়, শামারুহের এই পোস্ট তারই এক জোরালো প্রতিবাদ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সামাজিক মাধ্যমে তাঁর এই আবেগঘন ও যুক্তিনির্ভর বক্তব্য ইতিমধ্যে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে।

উপদেষ্টা সম্পাদকঃ হোসনে আরা বেগম
নির্বাহী সম্পাদকঃ মাইনুল ইসলাম
ফোন: +৮৮০১৬৭৪০৬২০২৩
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম
ফোন: +৮৮ ০১৭ ১২৭৯ ৮৪৪৯
অফিস: ৩৯২, ডি আই টি রোড (বাংলাদেশ টেলিভিশনের বিপরীতে),পশ্চিম রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।
যোগাযোগ: তাহিরুল ইসলাম, ০১৭৭৮০০৪৭০০ contact@banglahour.com
অফিসিয়াল মেইলঃ banglahour@gmail.com
banglahour
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল