
(৫ মাস আগে) ২৯ মার্চ ২০২৬, রবিবার, ৫:৩৩ অপরাহ্ন
চুয়াডাঙ্গা জেলায় জ্বালানী তেলের মজুদ, পরিবহন, বিপণন ও ব্যবহার বিষয়ক অনুষ্ঠানের সভাপতি চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেছেন, সরবরাহ ও বিপণন স্বাভাবিক রাখতে ‘ফুয়েল কার্ড’ চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। আগামী ১ এপ্রিল থেকে 'ফুয়েল কার্ড' কার্যকর হবে। জেলা এবং উপজেলায় মাইকিং করে কিভাবে 'ফুয়েল কার্ড' সংগ্রহ করতে হবে তা জানানো হবে। ৩০ এবং ৩১ মার্চ 'ফুয়েল কার্ড ' বিতরণ করা হবে। এ কার্ড নেয়ার জন্য প্রত্যেক গাড়ী চালককে জাতীয় পরিচয় পত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও গাড়ীর রেজিষ্ট্রেশন কার্ডের এক সেট ফটোকপি ও এক কপি ছবি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জমা দিলে 'ফুয়েল কার্ড' পাওয়া যাবে।
এই কার্ড দেখানো সাপেক্ষে পাম্প মালিকগণ তেল সরবরাহ করবে। তারা তেল সরবরাহ করার সময় ওই কার্ড দেখে নেবেন ওই চালককে পূর্বে কখন ও কি পরিমান তেল সরবরাহ করা হয়েছে এবং তার তেল চাওয়াটা যৌক্তিক কি না। যৌক্তিক হলে পাম্প মালিকগণ তেল সরবরাহ করবে। চুয়াডাঙ্গা জেলায় ২২টি জ্বালানী তেলের পাম্প আছে। এই পাম্প গুলো থেকে প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত জ্বালানী থাকা সাপেক্ষে খোলা থাকবে। রাত ৮টার পরে শুধুমাত্র ডিজেল সরবরাহ করার জন্য খোলা থাকবে।
যাতে কৃষি কাজে কোন বিঘ্নতা না ঘটে। আর তেল পাম্পে যে সকল শ্রমিকরা কাজ করছে, তাদের দ্বারা যদি অনিয়ম ও অনৈতিক কোন কাজকর্ম হয় সেটার দায়ভার নেয়ার জন্য আমরা পাম্প মালিকদের অনুরোধ করেছি তারা যেনো কোনভাবে অনিয়ম করতে না পারে এবং কোন গাড়ীর চালক বা মালিক যেনো কন্টেইনারে করে তেল নিতে না পারে।তেল যার প্রয়োজন তিনি তার পরিবহন নিয়ে এসে প্রয়োজন সাপেক্ষে তেল নিয়ে নেবেন।
রবিবার (২৯ মার্চ) বেলা ১২টার দিকে জ্বালানী তেলের মজুদ,পরিবহন, বিপণন ও ব্যবহার সংক্রান্ত তারই সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় তিনি এ সিদ্ধান্তগুলো জানান।
সভায় উপস্থিত চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে.কর্ণেল নাজমুল হাসান বলেন, সীমান্ত দিয়ে ভারতে জ্বালানী তেল পাচার হচ্ছে না। এ ব্যাপারের বিজিবি যথেষ্ট সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।
সভায় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান বলেন, আগামী ৩০ মার্চ থেকে জেলায় রেজিস্ট্রেশন, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও হেলমেটবিহীন মোটরযানের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালানো হবে। কেউ জ্বালানী তেলের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা কালোবাজারীর চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশী, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বি.এম.তারিক-উজ-জামানসহ সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং তেল পাম্প মালিক সমিতির প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।