
(৭ মাস আগে) ১ এপ্রিল ২০২৬, বুধবার, ৩:১৮ অপরাহ্ন
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশরাফুল ইসলাম রাসেলের বিরুদ্ধে এডিপি ও ইউডিএফ প্রকল্পের কাজ শেষে বিল উত্তোলনে অতিরিক্ত ৫ থেকে ১০ শতাংশ কমিশন আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। একই অভিযোগ উঠেছে উপজেলা পরিষদের গোপনীয় সহকারী জসিম উদ্দীনের বিরুদ্ধেও।
স্থানীয় সূত্র ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিধি অনুযায়ী উপজেলার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) প্রায় ৩০ শতাংশ কাজ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হয়। এ বছর জীবননগর উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে মোট ১৭টি প্রকল্প পিআইসির মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হয়েছে, যার প্রতিটির বরাদ্দ প্রায় ২ লাখ টাকা।
এর মধ্যে ১০টি এডিপি প্রকল্প এবং ইউডিএফ খাতের ১৬টি প্রকল্পের বিল ইতোমধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব বিল উত্তোলনের ক্ষেত্রে ভ্যাট ও আয়কর কর্তনের বাইরে অতিরিক্ত ৫ থেকে ১০ শতাংশ কমিশন আদায় করা হয়েছে।
পিআইসি সংশ্লিষ্ট কয়েকজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আগে কখনো এসব প্রকল্পে অতিরিক্ত কমিশন দিতে হয়নি। তবে বর্তমান ইউএনও ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার যোগদানের পর থেকে বিল উত্তোলনের আগে কমিশন দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। তাদের দাবি, আদায়কৃত কমিশনের মধ্যে বড় একটি অংশ ইউএনও এবং বাকি অংশ গোপনীয় সহকারীর কাছে যায়।
সীমান্ত, আন্দুলবাড়ীয়া, হাসাদহ ও কেডিকে ইউনিয়নের একাধিক প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কয়েকজন ইউপি সদস্য জানান, ভ্যাট ও আয়কর বাবদ ২০ শতাংশ কেটে নেওয়ার পরও অতিরিক্ত কমিশন দিতে হয়েছে। তবে কেউ কেউ এ অভিযোগ অস্বীকারও করেছেন।
মনোহরপুর ইউনিয়নে একটি প্রকল্পে তুলনামূলক কম, প্রায় ৫ শতাংশ কমিশন নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এ পরিস্থিতিতে অনেক পিআইসি সদস্য ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজে অংশ না নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা পরিষদের গোপনীয় সহকারী জসিম উদ্দীন অতিরিক্ত কোনো অর্থ নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, “ভ্যাট ১৫ শতাংশ ও আইটি ৫ শতাংশ ছাড়া কোনো টাকা নেওয়া হয়নি।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম রাসেল বলেন, “এগুলো আগের প্রকল্পের কাজ। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন। কিছু কাজ শেষ হওয়ায় বিল পরিশোধ করা হয়েছে।”
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগগুলো তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।