
(৭ মাস আগে) ৫ এপ্রিল ২০২৬, রবিবার, ৮:০০ অপরাহ্ন
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি : ঠাকুরগাঁও সুগারমিলের ভিতরের হাউস থেকে সুকৌশলে লাখ লাখ টাকার প্রায় দুই শতাধিক ড্রাম ভর্তি মোলাসেস (চিটাগুড়) বের করে লোপাট করে বিক্রী করার অভিযোগ উঠেছে মিলের অসাধু কতিপয় কর্মকর্তা এবং সুগারমিল শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে।
রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঠাকুরগাঁও সুগার মিলের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক শাহজাহান কবির। তিনি জানান এ ব্যাপারে লেবার ঠিকাদার মমিনুল ইসলামের নাম উল্লেখ করে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিষয়টির তদন্ত চলছে, তদন্তের পরে বিস্তারিত জানা যাবে।
সুগার মিল সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকালে সুগারমিলের পার্শবর্তী গ্রাম হরিহরপুর কবরস্থান থেকে ১৩ ড্রাম মোলাসেস উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধারকৃত মোলাসেস মিলকতৃপক্ষের হেফাজতে রাখা হয়েছে।
এ তথ্য এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। একটি সূত্র জানায়, মিলের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও শ্রমিক দুই নেতারা কৌশলে গত প্রায় ৩ থেকে ৪ দিন আগে সুগার মিলের পূর্ব প্রাচীর সংলগ্ন একটি শুকনো ডোবায় মোলাসেস গুলো সরিয়ে রাখে। পরে মিলের মোলাসেস ডিলার মোমিন সহ শ্রমিক নেতারা রাতের আধাঁরে সেগুলো ড্রামে ঢুকিয়ে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে। সন্দেহ হলে তারা শ্রমিকদের কাছে জানতে চাইলে তারা কোন সদুত্তর দিতে পারে নাই। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে এবং স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠলে ডিলার মোমিন ও শ্রমিকরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে বিষয়টি মিলের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়।
সূত্রটি আরো জানায়, ইতিপূর্বে মিলের দামি দামি যন্ত্রাংশ চুরির ঘটনা ঘটেছে। সুগার মিলের একটি চক্র এবার পাইপ লাইন ইচ্ছাকৃতভাবে লিকেজ করে সরকারি লক্ষ লক্ষ টাকার মোলাসেস লুটপাট করেছে। মোলাসেস পাচারের ঘটনার সাথে জড়িতদের সনাক্ত করে দ্রæত আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবী জানান তারা।
শ্রমিক কর্মচারি ইউনিয়ন সভাপতি মোঃ কুদ্দুস ও সাধারন সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ খান রতনের সাথে কথা হলে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বিকার করেন ।
সদর থানার এসআই তৌহিদ, জানায়, সন্দেহভাজন ডিলার মোমিন গাঁঢাকা দিয়েছে। উদ্ধারকৃত ১৩ ড্রাম মোলাসেসের কোন মালিকানা না পওয়া যাওয়ায় মিলকতৃপক্ষের কাছে তা জমা দেয়া হয়েছে।
মেইন হাইজে কত পরিমান মোলাসেস সংরক্ষিত ছিল এবং কত পরিমান মোলাসেস লুটপাট করা হয়েছে তার কোন হিসেব দিতে পারেনি মিল কতৃপক্ষ।
তবে সুগার মিলের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক শাহজাহান কবির জানান, মেইন হাউজের পাইপ লাইন লিক হয়ে এমন ঘটনা ঘটেছে। তিনি অনেক পরে জেনেছেন এবং জানার পরে কিছু মোলাসেস নিজস্ব জনবল দিয়ে মিলে নিয়ে আসা হয়েছে। এঘটনায় শিঘ্রই তদন্ত কমিটি করা হবে এবং যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।