
(৭ মাস আগে) ৬ এপ্রিল ২০২৬, সোমবার, ৭:৩৪ অপরাহ্ন
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (পথ) মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষায়, “দেখার যেন কেউ নেই”—এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে এলাকায়।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বিভিন্ন অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। তার অধীন ভৈরব বাজার ঘাট রেলওয়ে জংশন থেকে ময়মনসিংহের আঠারোবাড়ি এবং নরসিংদী পর্যন্ত প্রায় ২০০টির বেশি রেলওয়ে আবাসিক বাসা রয়েছে। এর মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ ও পরিত্যক্ত ঘোষিত বাসাগুলোও তিনি অবৈধভাবে ভাড়া দিয়ে প্রতিটি থেকে মাসে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া ঠিকাদারদের কাছ থেকে উৎকোচ নিয়ে রেললাইনে নিম্নমানের পাথর ব্যবহার করার সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। তার দপ্তরের নৈশ প্রহরীর নামে বাসা ভাড়া দিয়ে অর্থ আদায়ের বিষয়টিও সামনে এসেছে। ওই বাসায় ফুচকা তৈরির কার্যক্রম চলায় পরিবেশ দূষণের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।
আরও অভিযোগ রয়েছে, রেলওয়ের গুরুত্বপূর্ণ (কেপিআই) এলাকায় অবৈধভাবে কয়লা মজুদ রেখে বাণিজ্যিকভাবে ভাড়া দেওয়া হচ্ছে, যা পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এতে পাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে বলে দাবি এলাকাবাসীর। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলেও কর্তৃপক্ষের তেমন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, তিনি নিয়মবহির্ভূতভাবে পরিবার নিয়ে রেলওয়ের ভিআইপি রেস্ট হাউসে বসবাস করছেন। এসব অনিয়মের তদন্ত হলে সত্যতা পাওয়া যাবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
এসব অভিযোগে রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ ভৈরববাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। তারা অভিযুক্ত কর্মকর্তার অপসারণ ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে রেলওয়ে অফিসের নৈশ প্রহরী আবুল কালাম জানান, তার নামে বরাদ্দ বাসাটি ভাড়া দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ব্যবসায়ী আবুল কালাম বলেন, তিনি মাসে সাড়ে ৮ হাজার টাকা ভাড়া দিয়ে সেখানে ফুচকা তৈরির ব্যবসা করছেন।
তবে সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোয়াজ্জেম হোসেন। তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। আমি নিয়ম মেনেই দায়িত্ব পালন করছি।
অন্যদিকে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান আহমেদ তারেক অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে বলেন, মোয়াজ্জেম হোসেন রেস্ট হাউসে থাকেন না। রেলওয়ের বাসার সংখ্যা সম্পর্কে তথ্য চেয়ে তিনি বিষয়টি যাচাইয়ের কথা জানান। এছাড়া কৃষি লিজের মাধ্যমে রেলওয়ের জমি ব্যবহারের সঙ্গে অভিযুক্ত কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।