
(৬ মাস আগে) ৮ এপ্রিল ২০২৬, বুধবার, ৩:৩২ অপরাহ্ন
চুয়াডাঙ্গায় হঠাৎ ঝড়োবৃষ্টিতে বিভিন্ন স্থানের গাছ ও ডালপালা ভেঙে পড়েছে। যান চলাচলেও কিছুটা ব্যাঘাত ঘটছে। এদিকে, কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টির সময় পা পিছলে তিনতলা ভবনের ছাদ থেকে পড়ে মকলেছুর রহমান (৬৫) নামে এক বৃদ্ধের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাত পৌনে ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টি হয়।
এ সময় চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আলুকদিয়া ইউনিয়নের দৌলাতদিয়াড় গ্রামের সরদারপাড়ার মরহুম মোয়াজ্জেম হোসেনের ছেলে মকলেছুর রহমান বাড়ির তিনতলার ছাদের টিন নামানোর সময় ঝড়ো হাওয়ায় তিনি ভারসাম্য হারিয়ে ছাদ থেকে পড়ে যান।পরিবার সূত্রে জানা যায়, গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে ঝড়ের তীব্রতায় চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ সড়কের নূরনগর মোড়, ডিঙ্গেদহ ও বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় সড়কের পাশে থাকা বেশ কয়েকটি গাছ উপড়ে পড়ে। চুয়াডাঙ্গা-দামুড়হুদা সড়কের ফকিরপাড়া, কোষাঘাটা, দামুড়হুদা-কার্পাসডাঙ্গা সড়কের মোক্তারপুর ইটভাটার নিকট গাছ উপড়ে পড়ে। এতে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা স্থানীয়দের সহযোগীতায় গাছ অপসারণ করে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করে।
চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, গত মঙ্গলবার রাত ৭টা ৫৫ মিনিট থেকে ৯টা ৫ মিনিট পর্যন্ত জেলায় ২৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এ সময় ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২০ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হয়েছিল।
চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার জানান, আকর্ষিক ঝড়ে প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরুপন করা হয়েছে। জেলায় ৬০ হেক্টর বোরোধান, ৪১ হেক্টর কলা, ১১ হেক্টর পেঁপে, ৫ হেক্টর আম, ১২ হেক্টর সব্জি এবং ৩ হেক্টর পানবরজের ক্ষতি হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার জানান, ঝড়ে তেমন ক্ষতি হয়নি। তবে রাস্তায় গাছপালা ভেঙ্গে পড়ে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হলে তা সরিয়ে ফেলে রাস্তায় চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল জানান, প্রবল ঝড়ে মনোহরপুর গ্রামের তিনটি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদেরকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাদ্য সামগ্রী, ২ বান্ডিল ঢেউ টিন এবং প্রতি বান্ডিল ঢেউ টিনের অনুকূলে ৩ হাজার টাকা করে ৬ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে।