
(৬ মাস আগে) ১১ এপ্রিল ২০২৬, শনিবার, ৬:১৬ অপরাহ্ন
সিলেট নগরীর কোতোয়ালী মডেল থানার তাৎক্ষণিক অভিযানে একটি সংঘবদ্ধ হানিট্র্যাপ চক্রের দুই নারীসহ চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কবল থেকে দুইজন ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গত ৯ এপ্রিল ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ রাত আনুমানিক ৮টা ১৫ মিনিটে নগরীর মেন্দিবাগ পয়েন্ট এলাকা থেকে মাহমুদুল হাসান রিফাত (২৫) ও তার বন্ধু মাহফুজ আলী (২৫)-কে কৌশলে প্রতারণার মাধ্যমে ডেকে নেয় চক্রের সদস্য মোঃ আব্দুল জলিল। পরে তাদেরকে মোঃ জায়েদ আহমদের চালিত একটি সিএনজি অটোরিকশায় করে যতরপুর এলাকার নবপুষ্প-১১৩ নম্বর বাসার ৫ম তলায় নিয়ে যাওয়া হয়।
পরে ওই বাসায় আগে থেকে অবস্থানরত চক্রের সদস্য জেসমিন আক্তার (২২) ও চক্রের মূলহোতা তানজিলা আক্তার ওরফে রাবেয়া বেগম তানহা (২৭)-সহ অন্যান্য সহযোগীরা ভিকটিমদের জিম্মি করে। তাদেরকে ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখানো হয় এবং ইলেকট্রিক শক দিয়ে শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়।
এক পর্যায়ে ভিকটিমদের জোরপূর্বক উলঙ্গ করে অশ্লীল ভিডিও ধারণ করা হয় এবং তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরে ভিকটিম রিফাত আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে ৯০ হাজার টাকা সংগ্রহ করে চক্রটির হাতে তুলে দেন।
ঘটনাটি সন্দেহজনক মনে হলে ভিকটিমদের পরিবার কোতোয়ালী মডেল থানায় অবহিত করে। এর প্রেক্ষিতে থানার অফিসার ইনচার্জ খান মুহাম্মদ মাইনুল জাকিরের নির্দেশনায় ১০ এপ্রিল ভোর ৪টা ২০ মিনিটে এসআই আনোয়ারুল ইসলাম পাঠান ও তার টিম তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে ভিকটিমদের উদ্ধারসহ ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়।
এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি প্রাইভেটকার, একটি সিএনজি অটোরিকশা, তিনটি মোবাইল ফোন এবং ভিকটিমদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া একটি আইফোন ১৪ প্রো ম্যাক্স ও একটি আইটেল মোবাইল উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় কোতোয়ালী মডেল থানায় মামলা নং-১৯, তারিখ ১০ এপ্রিল ২০২৬ দায়ের করা হয়েছে। মামলায় দণ্ডবিধির একাধিক ধারা এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২ এর ৮(১) ধারা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলি