banglahour

কুড়িগ্রাম পৌরসভা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে ভূতুড়ে টিআর প্রকল্পে অর্ধকোটি টাকার লুটপাট

সারাদেশ | রাশিদুল ইসলাম রাশেদ। কুড়িগ্রাম।

(৬ মাস আগে) ১১ এপ্রিল ২০২৬, শনিবার, ৬:৪২ অপরাহ্ন

সর্বশেষ আপডেট: ৬:৫০ অপরাহ্ন


কুড়িগ্রাম পৌরসভায় গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) কর্মসূচির নামে অর্ধকোটি টাকারও বেশি অর্থ লুটপাটের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। কাগজে-কলমে প্রকল্প দেখিয়ে বাস্তবে কাজ না করেই সরকারি অর্থ আত্মসাতের এই ঘটনায় শহরজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে—কার ছত্রছায়ায় চলছে এই ‘ভূতুড়ে উন্নয়ন’?


অভিযোগে জানা যায়, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর থেকে কুড়িগ্রাম পৌরসভার জন্য মোট ৫২ লাখ ৩২ হাজার ৪০৫ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রথম পর্যায়ে ৩৫ লাখ ৯১ হাজার ৪২২ টাকা এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে ১৬ লাখ ৪০ হাজার ৯৮৩ টাকা ছাড় করা হয়। 

এই অর্থ ব্যয়ের জন্য স্পষ্ট নির্দেশনা থাকলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন মিলেনি।


সরকারি নির্দেশনায় কাবিখা প্রকল্পের রক্ষণাবেক্ষণ, রাস্তা ও বাঁধ সংস্কার, নালা-নর্দমা নির্মাণ, স্যানিটারি ল্যাট্রিন স্থাপন, ধর্মীয় ও জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন, এমনকি বিশুদ্ধ পানির জন্য নলকূপ স্থাপনসহ অন্তত ২০ ধরনের কাজের কথা বলা হলেও মাঠপর্যায়ে এসবের কোনো বাস্তব চিহ্ন নেই।
তদন্তে উঠে এসেছে ভয়াবহ চিত্র—পৌর এলাকার অন্তত ২৩টি প্রকল্পে কোনো দৃশ্যমান কাজই হয়নি। অথচ এসব প্রকল্পের বিপরীতে বরাদ্দের টাকা ইতোমধ্যে উত্তোলন করা হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষায়, “এ যেন কাগজে উন্নয়ন, বাস্তবে শূন্যতা।


সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয়, গত অর্থবছরে সম্পন্ন হওয়া একটি রাস্তার সলিংকরণ প্রকল্প আবারও চলতি বছরে দেখিয়ে ১ লাখ ৬১ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। একই কাজ বারবার দেখিয়ে অর্থ উত্তোলন—এ যেন দুর্নীতির এক নতুন কৌশল।


অভিযোগের তীর সরাসরি পৌর প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কুদরত-ই-খুদা এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হোসাইন মোহাম্মদ হাই জকী (বদলিকৃত)'র দিকে। অভিযোগ রয়েছে, তারা নিজেদের অনুগতদের দিয়ে মনগড়া প্রকল্প তৈরি করে বিধিবহির্ভূতভাবে প্রকল্প কমিটি গঠন করেছেন। এমনকি তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীদেরও একাধিক প্রকল্পের সভাপতি করা হয়েছে—যা প্রচলিত নিয়মের সরাসরি লঙ্ঘন।


একাধিক প্রকল্পের সভাপতি ও পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা শামিমা আক্তার অনিয়মের বিষয়টি আংশিক স্বীকার করে বলেন, “উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই কাজ করেছি।” তার এই বক্তব্যই প্রশ্ন তুলছে—তাহলে প্রকৃত নির্দেশদাতা কে?
পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আইয়ুব আলী দায় এড়িয়ে বলেন, “সব দায়িত্ব পৌর প্রশাসকের।” ফলে পুরো বিষয়টি যেন দায় ঠেলাঠেলির এক নাটকে পরিণত হয়েছে।


অন্যদিকে, অভিযুক্ত পৌর প্রশাসক কুদরত-ই-খুদার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি, এমনকি ক্ষুদে বার্তারও কোনো জবাব দেননি। নীরবতাই কি তবে দায় স্বীকারের ইঙ্গিত—এ প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে জনমনে।


স্থানীয়দের অভিযোগ, জনপ্রতিনিধি না থাকার সুযোগে প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেছে। তারা বলছেন, “এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং সংগঠিত দুর্নীতির একটি সুপরিকল্পিত রূপ।


সচেতন মহলের দাবি, অবিলম্বে উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে জড়িতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় উন্নয়নের নামে এই লুটপাটের সংস্কৃতি থামানো সম্ভব হবে না।


কুড়িগ্রামে ‘ভূতুড়ে প্রকল্পে’ অর্ধকোটি টাকা গায়েব—এখন প্রশ্ন একটাই, জবাবদিহি করবে কে?

 

 

উপদেষ্টা সম্পাদকঃ হোসনে আরা বেগম
নির্বাহী সম্পাদকঃ মাইনুল ইসলাম
ফোন: +৮৮০১৬৭৪০৬২০২৩
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম
ফোন: +৮৮ ০১৭ ১২৭৯ ৮৪৪৯
অফিস: ৩৯২, ডি আই টি রোড (বাংলাদেশ টেলিভিশনের বিপরীতে),পশ্চিম রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।
যোগাযোগ: তাহিরুল ইসলাম, ০১৭৭৮০০৪৭০০ contact@banglahour.com
অফিসিয়াল মেইলঃ banglahour@gmail.com
banglahour
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল