banglahour

পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংস্কৃতি সমৃদ্ধ, সম্প্রীতির প্রতীক সাংগ্রাই: পার্বত্য মন্ত্রী

সারাদেশ | মিল্টন বাহাদুর, রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি।

(৬ মাস আগে) ১৫ এপ্রিল ২০২৬, বুধবার, ২:৪২ অপরাহ্ন

পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংস্কৃতি অত্যন্ত সমৃদ্ধ উল্লেখ করে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান (এমপি) বলেছেন, সামাজিক উৎসবের মাধ্যমেই এই সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখতে হবে। তিনি বলেন, সাংগ্রাই এখন শুধু মারমা সম্প্রদায়ের নয়, বরং পাহাড়ের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রতীক হিসেবে পরিণত হয়েছে।


বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকালে রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলার চিৎমরম বৌদ্ধ বিহার মাঠে মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী ‘সাংগ্রাই রিলং পোয়ে:’ বা জলকেলি উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের বৈচিত্র্যময় সামাজিক উৎসবগুলো কেবল আনন্দের আয়োজন নয়, এগুলো আমাদের ঐতিহ্য, রীতিনীতি ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সাংগ্রাইকে ঘিরে সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের মিলন ঘটেছে, যা দেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনার বহিঃপ্রকাশ। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সকল জাতিসত্তার ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।


সাংগ্রাই উৎসব উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক উথোয়াইমং মারমার সভাপতিত্বে এবং সামেচিং মারমার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব রবীন্দ্র চাকমা, কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন, রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলাম ভুট্টো ও সাইফুল ইসলাম পনির, উপজেলা বিএনপির সভাপতি লোকমান হোসেন, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান দিলদার হোসেনসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।


মন্ত্রী আরও বলেন, সরকার পাহাড়ে বসবাসরত সব সম্প্রদায়ের অধিকার নিশ্চিত করতে এবং সম্প্রীতির বন্ধন জোরদার করতে বদ্ধপরিকর। তিনি সবাইকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
তিনি জানান, এ বছর পার্বত্যাঞ্চলের ১১টি জাতিগোষ্ঠী তাদের নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী উৎসব উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উদযাপন করেছে। তবে কিছু জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্য ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি তা সংরক্ষণে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
উদ্বোধনের পর মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী নাচ-গান পরিবেশিত হয়। পাশাপাশি তরুণ-তরুণীরা ঐতিহ্যবাহী পোশাকে একে অপরের ওপর পানি ছিটিয়ে পুরোনো বছরের দুঃখ-গ্লানি ভুলে নতুন বছরকে স্বাগত জানান—যা ‘মৈত্রী পানিবর্ষণ’ নামে পরিচিত।


এর আগে সকালে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় অংশ নেন শত শত মারমা নারী-পুরুষ। বাদ্যের তালে তালে র‌্যালিটি এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।


উৎসবে অংশ নিতে আসা তরুণ-তরুণীরা জানান, পানি খেলার মাধ্যমে পুরনো বছরের সব কষ্ট ধুয়ে-মুছে নতুন বছরের সুখ-সমৃদ্ধির প্রত্যাশা করা হয়। এটি তাদের প্রাণের উৎসব।


চিৎমরম বৌদ্ধ বিহার প্রাঙ্গণ উৎসবের রঙে সাজানো হয় এবং চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা থেকেও হাজারো মানুষ এতে অংশ নেন। এতে উৎসবটি এক সর্বজনীন মিলনমেলায় পরিণত হয়।


উল্লেখ্য, গত ১২ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া বিজু, বিষু ও বৈসু উৎসবের ধারাবাহিকতায় সাংগ্রাই উৎসব শুরু হয়েছে। কাপ্তাইয়ের এই জলকেলি উৎসব আগামী ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত বিভিন্ন মারমা পল্লীতে চলবে। আর ১৭ এপ্রিল রাঙ্গামাটির চিং হ্লা মং মারি স্টেডিয়ামে বৃহত্তর জলকেলির মধ্য দিয়ে পাহাড়ে বিজু উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।


উৎসবকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

উপদেষ্টা সম্পাদকঃ হোসনে আরা বেগম
নির্বাহী সম্পাদকঃ মাইনুল ইসলাম
ফোন: +৮৮০১৬৭৪০৬২০২৩
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম
ফোন: +৮৮ ০১৭ ১২৭৯ ৮৪৪৯
অফিস: ৩৯২, ডি আই টি রোড (বাংলাদেশ টেলিভিশনের বিপরীতে),পশ্চিম রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।
যোগাযোগ: তাহিরুল ইসলাম, ০১৭৭৮০০৪৭০০ contact@banglahour.com
অফিসিয়াল মেইলঃ banglahour@gmail.com
banglahour
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল