banglahour

বান্দরবানে এলজিইডির তিন সড়কে বদলে যাচ্ছে পাহাড়ের জনপদ

সারাদেশ | শহিদুল আলম। বান্দরবান প্রতিনিধি।

(৬ মাস আগে) ২৬ এপ্রিল ২০২৬, রবিবার, ৫:৫৩ অপরাহ্ন

 দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ, খানা-খন্দ আর বিচ্ছিন্নতার জীবন পেছনে ফেলে উন্নয়নের নতুন পথে হাঁটছে বান্দরবানের পাহাড়ি জনপদ। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি) নির্মিত গোয়ালিয়াখোলা, ঈদগড়-বাইশারী ও ঘুমধুম—এই তিন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বদলে দিয়েছে প্রায় আড়াই লক্ষাধিক মানুষের জীবনযাত্রা। সহজ হয়েছে যোগাযোগ, বেড়েছে কৃষিপণ্য পরিবহন, চাঙা হচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতি। পাহাড়ি জনপদে ফিরেছে স্বস্তি।

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, গোয়ালিয়াখোলা সড়ক ৭ দশমিক ৫ কিলোমিটার, ঈদগড়-বাইশারী সড়ক ৪ কিলোমিটার এবং ঘুমধুম সড়ক ৪ কিলোমিটার উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। এর মধ্যে গোয়ালিয়াখোলা ও ঘুমধুম সড়কের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে, আর ঈদগড়-বাইশারী সড়কের প্রায় ৯৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

গোয়ালিয়াখোলা সড়ক তিন প্যাকেজে বাস্তবায়ন করা হয়েছে, এস অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরা লিমিটেড, ইউ টিমং এবং মিলটন ট্রেডার্স। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩০ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

অন্যদিকে ঈদগড়-বাইশারী সড়কে ব্যয় হচ্ছে ৪ কোটি ১০ লাখ টাকা। ঘুমধুম সড়কের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

সম্প্রতি সময়ে সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা যায়, এলাকার সাধারণ মানুষজন সহজে হাট-বাজারসহ নানা কাজে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করছে। ছাত্রছাত্রীরা নিজ এলাকা থেকে স্কুল-কলেজে সহজে ও সঠিক সময়ে পৌচ্ছাতে পারছে। এতে লোকজনের মধ্যে স্বস্তি দেখা যায়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই সড়কগুলো চালু হওয়ায় বাইশারী, ঈদগড়, ঘুমধুম ও গোয়ালিয়াখোলা অঞ্চলের মানুষের জীবন অনেক সহজ হয়েছে। পরিবহন বেড়েছে ও কৃষিপণ্য বাজারে পৌঁছাতে সময় করেছে।  অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি ফিরেছে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায়ও মিলছে সুফল।

বিশেষ করে কৃষি খাতে ইতিবাচক প্রভাব ইতোমধ্যে দৃশ্যমান। আগে দুর্গমতার কারণে অনেক কৃষক ফসলের পণ্য ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করতে পারতেন না। এখন সড়ক উন্নয়নে বাজারজাতকরণ সহজ হওয়ায় কৃষকদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।

ঘুমধুমের বাসিন্দা আবু নূর জানান, কাদা আর গর্তে ভরা রাস্তাগুলো যেন ছিল দুর্ভোগের প্রতীক। নতুন সড়কে এখন সেই চিত্র বদলেছে।

বাইশারীর বাসিন্দা ছৈয়দ আলম বলেন, একসময় বর্ষা এলেই এসব সড়ক দিয়ে চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যেত। রোগী হাসপাতালে নিতে, শিক্ষার্থীদের স্কুলে যেতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হতো।

কৃষক আবুল আহাম্মেদ গোয়ালিয়াখোলার বাসিন্দা। তিনি জানান, ভালো সড়কের অভাবে জমির ফসল মাথায় ও কাঁদে বহণ করে বাজারে নিতে খুবই কষ্ট হতো। এই কষ্টের কারণে অনেক ফসল জমিতেই নষ্ট হতো।  এখন সহজে বাজারজাত করা যাচ্ছে।  

বান্দরবান এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী প্রতিপদ দেওয়ান বলেন, পাহাড়ে অবকাঠামো নির্মাণ অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও আমরা টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি। এসব সড়ক শুধু যোগাযোগ নয়, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও জীবনমান উন্নয়নেরও ভূমিকা রাখবে। 
...............................................

উপদেষ্টা সম্পাদকঃ হোসনে আরা বেগম
নির্বাহী সম্পাদকঃ মাইনুল ইসলাম
ফোন: +৮৮০১৬৭৪০৬২০২৩
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম
ফোন: +৮৮ ০১৭ ১২৭৯ ৮৪৪৯
অফিস: ৩৯২, ডি আই টি রোড (বাংলাদেশ টেলিভিশনের বিপরীতে),পশ্চিম রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।
যোগাযোগ: তাহিরুল ইসলাম, ০১৭৭৮০০৪৭০০ contact@banglahour.com
অফিসিয়াল মেইলঃ banglahour@gmail.com
banglahour
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল