
(৬ মাস আগে) ২ মে ২০২৬, শনিবার, ৮:৫৩ পূর্বাহ্ন
বর্ষা শুরুর আগেই মেঘনার তীব্র ভাঙ্গন শুরু হয়েছে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ উলানিয়া ইউনিয়নে। ইতোমধ্যে আশা, পূর্ব সুলতানী, পশ্চিম সুলতানী এবং জাদুয়া গ্রামের শতাধিক বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ফসলি জমি, স্কুল, মসজিদ, মাদরাসাসহ সরকারি-বেসরকারি বহু স্থাপনাও গ্রাস করেছে সর্বনাশা মেঘনা। ভাঙ্গন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে এই এলাকার প্রায় ১০ হাজার পরিবার।
যেকোনো সময় নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে উলানিয়া মুজাফফর খান ডিগ্রি কলেজ, সুলতানী আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পূর্ব তেতুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কালীগঞ্জ ও লালগঞ্জ বাজার। এসব প্রতিষ্ঠান মেঘনা নদীর কিনারায় চলে এসেছে। বাজার দুটি নদীতে বিলীন হলে হাজারো মানুষের জীবিকা হুমকিতে পড়বে।
বসতভিটা হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে শতাধিক পরিবার।
মেঘনার কবল থেকে নিজেদের শেষ সম্বল বসতভিটা রক্ষার দাবিতে শুক্রবার(১লা মে) বিকালে মেঘনার পাড়ে মানববন্ধন করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত হাজারো নারী-পুরুষ।
মানববন্ধনে এলাকাবাসীর পক্ষে বক্তব্য দেন বৃহত্তর উলানিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম চৌধুরী (মিল্টন), দক্ষিন উলানিয়া ইউনিয়ন বিএনপি নেতা মোঃ হাবিব হাওলাদার, ইউনিয়ন জামায়াত আমীর আবুল কালাম আজাদ। অনান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জাকির হোসেন পান্না, মাহাতাব উদ্দিন ফরিদ, কালীগঞ্জ ব্যবসায়ী জামাল ভূইয়া, তারেক তালুকদার, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জলিল রাঢ়ী, মাছঘাট ব্যবসায়ী মনির হোসেন তালুকদার প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, বর্ষার আগেই যেভাবে ভয়াবহ ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে, তা অব্যাহত থাকলে আমাদের দক্ষিন উলানিয়া ইউনিয়নটি মানচিত্র থেকে মুছে যাবে। হাজার হাজার মানুষ উদ্বাস্তু হয়ে যাবে। তারা দ্রুত কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করে জিও ব্যাগ ও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য সেতু বিভাগ ও নৌ-মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান এমপিসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানান।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রিয়াজুর রহমান বলেন, দক্ষিণ উলানিয়ার ভাঙ্গনের বিষয়টি আমরা অবগত। ইতিমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে আমরা জানিয়েছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে শিগ্রই জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।