
(৫ মাস আগে) ৯ মে ২০২৬, শনিবার, ৮:০১ অপরাহ্ন
টানা এক সপ্তাহের অতিবৃষ্টিতে কিশোরগঞ্জের ভৈরবে জোয়ানশাহী হাওরসহ বিভিন্ন নিচু এলাকার প্রায় ২১৫ হেক্টর ধানি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে বোরো ধান কাটতে না পেরে চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। পানিতে জমি ডুবে যাওয়ায় কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন ব্যবহার করা যাচ্ছে না, আবার অতিরিক্ত মজুরি দিয়েও মিলছে না শ্রমিক। এতে লোকসানের মুখে পড়ে সরকারের সহযোগিতা দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।
ভৈরবের জোয়ানশাহী হাওর, শ্রীনগর, আগানগর, শিমুরকান্দিসহ ৭টি ইউনিয়নে চলতি মৌসুমে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬ হাজার ৯১০ হেক্টর জমি। তবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি, প্রায় ৬ হাজার ৯৩০ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনও ছিল ভালো। অনেক জমির ধান পেকে গেছে, আবার কিছু জমির ধান আধাপাকা অবস্থায় রয়েছে। কৃষকদের চোখে ছিল সোনালি স্বপ্ন। কিন্তু হঠাৎ টানা বৃষ্টিতে সেই স্বপ্নে নেমে এসেছে দুশ্চিন্তার কালো ছায়া।
স্থানীয় কৃষক জমির মিয়া, জাফর মিয়া, সেকান্দর মিয়া ও মিলন মিয়াসহ অনেকে জানান, বৃষ্টির পানিতে হাওর ও নিচু এলাকার ধানক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় ধান কাটা কঠিন হয়ে পড়েছে। পানিতে হারভেস্টার নামানো যাচ্ছে না, আবার দেড় হাজার টাকা দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে পানিতে নেমে নিজেরাই ধান কাটার চেষ্টা করছেন তারা।
কৃষকদের অভিযোগ, অনেকেই ধার-দেনা করে ধান চাষ করেছেন। এই ফসল বিক্রি করেই ঋণ পরিশোধ ও সংসার চালানোর আশা ছিল। কিন্তু ধান পানিতে ডুবে যাওয়ায় এখন চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা। কারো ৫ বিঘা, কারো ৮ বিঘা আবার কারো ১০ বিঘা জমির ধান পানিতে নিমজ্জিত হয়ে গেছে। এতে কৃষকদের মধ্যে হতাশা ও কান্নার দৃশ্য দেখা যাচ্ছে।
এ বিষয়ে ভৈরব উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আকলিমা বেগম বলেন, “চলতি মৌসুমে ভৈরবে ৬ হাজার ৯১০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও ৬ হাজার ৯৩০ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। অতিবৃষ্টির কারণে এ পর্যন্ত প্রায় ২১৫ হেক্টর জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। কৃষকরা ধান শুকাতেও পারছেন না। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে, যাতে তারা সরকারি সহায়তা পেতে পারেন।”