
(৩ মাস আগে) ১৯ মে ২০২৬, মঙ্গলবার, ২:১০ অপরাহ্ন
রূপের রাণী রাঙ্গামাটি জেলার অন্যতম প্রাচীন ও দুর্গম উপজেলা বরকল। পাহাড়বেষ্টিত এ উপজেলায় যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে স্বাস্থ্যসেবা খাত দীর্ঘদিন ধরেই ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে। সড়ক যোগাযোগ না থাকায় নৌপথই এখানকার মানুষের একমাত্র ভরসা। অথচ জরুরি রোগী পরিবহনের জন্য বরাদ্দকৃত ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্সটি এখন পড়ে আছে ডাঙ্গার ঝোপঝাড়ে, অযত্ন-অবহেলায়।
বরকল সদর থেকে নৌপথে রাঙ্গামাটি জেলা সদরে পৌঁছাতে সময় লাগে প্রায় ২ থেকে ৩ ঘণ্টা। সাধারণ রোগী থেকে শুরু করে মুমূর্ষু রোগীকেও নির্ভর করতে হয় নৌযানের ওপর। এ পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রায় ৭-৮ বছর আগে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ বরকল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৭৫ হর্সপাওয়ার ইঞ্জিনচালিত একটি ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স প্রদান করে।
একই সঙ্গে তিন বছরের চুক্তিভিত্তিক একজন চালকও নিয়োগ দেওয়া হয়।
কিন্তু শুরু থেকেই অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে সাধারণ মানুষের কাছে ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্সটি কার্যত অকার্যকর হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, রোগী বহনের জন্য বরকল থেকে রাঙ্গামাটি পর্যন্ত প্রায় ২০ হাজার টাকা ভাড়া গুনতে হতো। পরবর্তীতে চালকের চুক্তি নবায়ন না হওয়া, রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, অব্যবস্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় ধীরে ধীরে অকেজো হয়ে পড়ে নৌ-অ্যাম্বুলেন্সটি।
বর্তমানে এটি বরকল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশে ডাঙ্গায় ঝোপঝাড়ে ঢাকা পড়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
এ বিষয়ে বরকল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শান্তনু দাশ বলেন,
“বরকল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্সটি ৭-৮ বছর আগে রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ একজন চুক্তিভিত্তিক চালকসহ প্রদান করে। পরে চালকের চাকরি স্থায়ী না হওয়ায় ধীরে ধীরে এটি অকেজো হয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে জেলা পরিষদের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করা হলেও তারা কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গভীর রাতে গর্ভবতী নারী কিংবা গুরুতর অসুস্থ রোগীকে জরুরি ভিত্তিতে জেলা সদরে নেওয়ার প্রয়োজন হলেও এই জীবনরক্ষাকারী যানটি অকেজো অবস্থায় পড়ে থাকে। ফলে বাধ্য হয়ে সাধারণ মানুষকে চড়া দামে নৌকা ভাড়া করতে হয়। অনেক সময় অর্থ সংকট বা সময়মতো যাতায়াতের ব্যবস্থা না পাওয়ায় রোগীর অবস্থা আরও সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে, এমনকি পথেই প্রাণ হারানোর ঘটনাও ঘটে।
বরকলবাসীর ভাষ্য, এটি শুধু একটি যান্ত্রিক নৌযান নয়, বরং দুর্গম এলাকার মানুষের বেঁচে থাকার আশার প্রতীক। রাষ্ট্রীয় এই অমূল্য সম্পদের এমন অবক্ষয় কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
তাদের দাবি, দ্রুত ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্সটি মেরামত করে পুনরায় চালু করতে হবে অথবা কার্যকর বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে বরকলবাসীর জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে।