
(৩ মাস আগে) ২ জুন ২০২৬, মঙ্গলবার, ৭:৫৫ অপরাহ্ন
খুলনায় দূর্বৃত্তের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আবারও যুবক খুন।খুলনা আইন শৃঙ্খলার চরম অবনতি।
খুলনা নগরীর লবণচরা থানাধীন সাচিবুনিয়া এলাকার স্কুলভিটায় মোঃ রাশেদ নামের এক যুবককের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১২ টায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত রাশেদ জিরোপয়েন্ট কৃষ্ণনগর এলাকার আনিসুর কাজীর ছেলে। পেশায় রাজমিস্ত্রী।
লবণচরা থানা অফিসার ইনচার্জ সৈয়দ মোশাররফ হোসেন বলেন, আজ সকালে লবণচড়া থানার কৃষ্ণনগর এলাকায় বাড়ির পাশের একটি দোকানের সামনে থেকে তিন চারটি মোটরসাইকেল যোগে রাশেদকে তুলে নিয়ে যান দুর্বৃত্তরা। পরবর্তীতে সাচিবুনিয়া এলাকায় নিয়ে তাকে কুপিয়ে হত্যা করেন। রাশেদের মরদেহ উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে । এর আগেও রাশেদকে একাধিকবার হত্যার চেষ্টা করা হয়। পূর্ব শত্রুতার জের ধরেই এই হত্যাকান্ডটি ঘটেছে বলে পুলিশ ধারণা করেছেন। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের আটকের তৎপরতা চালাচ্ছে পুলিশ।
২০২৬ সালের প্রথম কয়েক মাসে (জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত) খুলনা মেট্রোপলিটন এলাকায় অন্তত ১২টির বেশি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে মাদক ব্যবসা, আধিপত্য বিস্তার, এবং রাজনৈতিক কোন্দলের জেরে গুলি ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে অন্তত ৮ জন নিহতের খবর প্রকাশ পায় । বছরের প্রথম দুই মাসে ৮ খুন, গুলিবিদ্ধ অর্ধশতাধিক।
জানুয়ারী ও ফেব্রুয়ারী মাসে মহানগরীতে অন্তত ৮টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে পাঁচটি হত্যাকাণ্ডই ঘটেছে গুলি করে। এছাড়া গুলি ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক মানুষ। আইনের কঠোর প্রয়োগ ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
পুলিশের দেয়া তথ্যমতে, মাদক ব্যবসা, আধিপত্য বিস্তার এবং রাজনৈতিক কোন্দলের জেরে এসব নৃশংসতা ঘটছে। বেশিরভাগ হত্যাকাণ্ডে জড়িত নগরীর একাধিক সক্রিয় সন্ত্রাসী গ্রুপের অস্ত্রধারীরা। গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যমতে, মহানগরীতে ৬ থেকে ৭টি সক্রিয় সন্ত্রাসী গোষ্ঠী রয়েছে।
নগরীর অনেকে মনে করেন শুধু পুলিশের ওপর দায় চাপিয়ে এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। সেক্ষেত্রে সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সচেষ্ট হতে হবে।’ একই সাথে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অপরাধীদের চাইতে আরও বেশি চৌকস হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
এ বিষয়ে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, ‘অপরাধ নিয়ন্ত্রণে তারা সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছে। তবে সন্ত্রাসীরা জামিনে বেরিয়ে আবারও অপরাধে লিপ্ত হচ্ছে।
সরকারের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের প্রতি হত্যা, সন্ত্রাস,মাদক বন্ধে আরো কঠোর ভূমিকা পালনের দাবি জানিয়েছে নগরবাসি।