
(১ মাস আগে) ১৮ জুন ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ৫:০৯ অপরাহ্ন
সুন্দরবনের জয়মনির ঘোল এলাকায় কোস্ট গার্ড স্টেশন হারবারিয়ায় দুর্বৃত্তদের হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও নিন্দনীয় বলে মন্তব্য করেছেন কোস্ট গার্ড মহাপরিচালক রিয়ার এডমিরাল মোঃ জিয়াউল হক। একটি বাহিনীর স্থাপনায় এই হামলাকে কেবল সরকারি সম্পদের ক্ষতি নয়, বরং সুন্দরবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অপরাধ দমন কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করার একটি অপচেষ্টা। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে হামলা ও ভাংচুরের শিকার ঘাটি টি পরিদর্শন শেষে কোস্ট গার্ড মহাপরিচালক এসব কথা বলেন।
তিনি উল্লেখ করেন, সুন্দরবন অঞ্চলে আইন-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও সম্পূর্ণরূপে বনদস্যুতা দমনে কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে বর্তমানে “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন” এবং “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। কোস্ট গার্ডের ধারাবাহিক অভিযান, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টায় দস্যু চক্রগুলো ব্যাপকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত ‘ছোট সুমন’ ও তার সহযোগীরা সম্প্রতি কোস্ট গার্ডের নিকট আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়।
কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বনদস্যুদের অন্যতম প্রধান ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল মোংলার জয়মনির ঘোল এলাকা। সেখানে কোস্ট গার্ডের ‘হারবারিয়া স্টেশন’ স্থাপনের ফলে বনদস্যুদের কাছে রসদ, লজিস্টিক সহায়তা, অস্ত্র ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহের পথ কার্যকরভাবে বাধাগ্রস্ত হয়। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা উল্লেখযোগ্যভাবে ব্যাহত হওয়ায় এবং সুন্দরবনে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হওয়ায় কোণঠাসা হয়ে পড়া একটি মহল পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে। তবে ঘটনার পরপরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
মহাপরিচালক রিয়ার এডমিরাল মোঃ জিয়াউল হক উপস্থিত সাংবাদিকদের মাধ্যমে সুন্দরবন ও উপকূলীয় এলাকার জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “কোনো ধরনের গুজব, অপপ্রচার বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আস্থা রাখুন এবং দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করুন।”
তিনি আরও জানান, দেশের সামুদ্রিক সম্পদ রক্ষা, মাদক ও মানবপাচার প্রতিরোধ, চোরাচালান ও অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ এবং উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সর্বদা দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে। সুন্দরবনের নিরাপত্তা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং স্থানীয় জনগণের নিরাপদ জীবন-জীবিকা নিশ্চিত করতে যেকোনো অপরাধমূলক তথ্য কোস্ট গার্ডের জরুরি সেবা নম্বর ১৬১১১-এ অবহিত করার মাধ্যমে অপরাধ দমনে সাধারণ মানুষকে সক্রিয় ভূমিকা রাখার অনুরোধ জানান তিনি।
এসময় কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন সদর দপ্তরের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেজবাহ উল ইসলামসহ পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।