
(২ মাস আগে) ২ জুলাই ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ৬:০০ অপরাহ্ন
কুমিল্লার মুরাদনগরে মানহানির মামলায় আদালতের ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে স্থানীয় সাংবাদিক ও মুরাদনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম আরিফকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে গ্রেফতারের প্রায় ২৪ ঘণ্টা অতিক্রম হলেও তাকে আদালতে হাজির না করায় স্থানীয় সাংবাদিক মহলে উদ্বেগ ও নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, আদালতে পাঠাতে বিলম্বের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে। তাদের অভিযোগ, তাকে আরও কয়েকটি মামলায় জড়ানোর চেষ্টা চলছে, যাতে জামিন প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হয়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জানা গেছে, বুধবার (১ জুলাই) বিকেলে উপজেলার গাইঢুলি এলাকা থেকে মাহবুব আলম আরিফকে গ্রেফতার করে মুরাদনগর থানা পুলিশ।
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৭ জুন রাতে "হিন্দু নারীকে বিবস্ত্র করে ধর্ষণ" শিরোনামে ‘মুরাদনগর লাইভ টিভি’ নামের একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে অভিযুক্ত ফজর আলীকে বিএনপির নেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। সংবাদটি মাহবুব আলম আরিফের পরিচালিত অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
এর জেরে ৯ জুলাই মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১১ নম্বর আমলি আদালতে এক হাজার কোটি টাকার মানহানির মামলা দায়ের করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে মাহবুব আলম আরিফের বিরুদ্ধে সমন জারি করেন। পরবর্তীতে সমনের পরিপ্রেক্ষিতে জারি হওয়া গ্রেফতারি পরোয়ানার ভিত্তিতেই তাকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মাহবুব আলম আরিফ উপজেলার সদর এলাকার মৃত মনিরুল হকের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় দৈনিক আজকের পত্রিকা, মানবকণ্ঠ এবং স্থানীয় আজকের কুমিল্লা পত্রিকার মুরাদনগর প্রতিনিধি হিসেবে সাংবাদিকতা করে আসছেন।
গ্রেফতারের পর বুধবার বিকেলে মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন চৌধুরী জানান, মাহবুব আলম আরিফের বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল। তিনি আরো বলেন, ওয়ারেন্ট থাকায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে তিনি সাংবাদিক তা আমাদের জানা ছিলো না।
তবে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুর পর্যন্ত তাকে আদালতে হাজির না করার কারণ জানতে ওসির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এদিকে স্থানীয় সাংবাদিকদের একাংশ ওসির বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের দাবি, মাহবুব আলম আরিফ মুরাদনগরের সুপরিচিত সাংবাদিক। তাই তার পেশাগত পরিচয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অজানা ছিল—এ দাবি গ্রহণযোগ্য নয়। তারা অভিযোগ করেন, সাংবাদিককে রাজনৈতিকভাবে হয়রানির উদ্দেশ্যে দীর্ঘ সময় থানায় আটকে রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতাদের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। মামলার অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ এবং গ্রেফতার-পরবর্তী বিতর্কের বিষয়ে শেষ পর্যন্ত আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই বিষয়টির নিষ্পত্তি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।