
(২ মাস আগে) ৩ জুলাই ২০২৬, শুক্রবার, ৯:৪৮ অপরাহ্ন
আওয়ামী লীগের পথে হাঁটলে বিএনপিতে ঠাঁই নেই,প্রকৃত কৃষকদের হাতে ঋণ পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান আজিজুল বারী হেলালের।
বিএনপির কেন্দ্রীয় তথ্য বিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আজিজুল বারী হেলাল বলেছেন, আওয়ামী লীগের দখলদারিত্ব, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির রাজনীতি অনুসরণ করলে বিএনপিতে কারও জায়গা হবে না। দলের নাম ব্যবহার করে কেউ দখল, চাঁদাবাজি কিংবা অনিয়মে জড়ালে তার দায় দল নেবে না। একই সঙ্গে তিনি সরকারি কৃষিঋণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের সুবিধা প্রকৃত কৃষকদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
শুক্রবার বিকেলে খুলনার রূপসা মডেল মসজিদ মিলনায়তনে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) আয়োজিত জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উপলক্ষে কৃষক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘উন্নত পল্লী, সমৃদ্ধ দেশ সবার আগে বাংলাদেশ।
আজিজুল বারী হেলাল বলেন, গত ১৭ বছরে রাষ্ট্রীয় সম্পদ জনগণের কল্যাণে ব্যয় না করে দুর্নীতি ও লুটপাটের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করেছিল। এখন বিএনপির কোনো নেতাকর্মী যদি একই পথে হাঁটে, তাহলে আওয়ামী লীগের সঙ্গে তাদের কোনো পার্থক্য থাকবে না।
তিনি বলেন,আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন—দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে বিএনপির অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। দলের পরিচয় ব্যবহার করে কেউ অনিয়ম করলে তাকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে দখলদার ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
কৃষকদের অধিকার ও গ্রামীণ অর্থনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পে কোটি কোটি টাকার ঋণ বরাদ্দ থাকলেও প্রকৃত কৃষক, মৎস্যচাষি ও হাঁস-মুরগির খামারিরা সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। পরিবর্তে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তি, ঠিকাদার কিংবা সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর হাতে এসব ঋণ চলে যাচ্ছে। পরে সেই অর্থ উচ্চ সুদে দাদন ব্যবসা বা অন্য খাতে বিনিয়োগ করা হচ্ছে, যা পল্লী উন্নয়নের মূল উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করছে।
তিনি বলেন,যারা মাঠে ফসল ফলান, মাছ চাষ করেন, গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির খামার পরিচালনা করেন সরকারি ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে তাদেরই অগ্রাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। প্রকৃত কৃষক বঞ্চিত হলে গ্রামীণ অর্থনীতি কখনোই শক্তিশালী হবে না।
আজিজুল বারী হেলাল আরও বলেন, ভবিষ্যতে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কারা ঋণ পেলেন, কত টাকা পেলেন এবং কী কাজে তা ব্যবহার হলো—এসব বিষয়ে পূর্ণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি অর্থ যেন কোনোভাবেই ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহৃত না হয়, সে বিষয়ে কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
রূপসা ইউসিসিএ লিমিটেডের সভাপতি হাসিবুর রহমান বাবুর লস্করের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিআরডিবির খুলনা বিভাগের যুগ্ম পরিচালক এ কে এম আশরাফুল ইসলাম, রূপসার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইফতেখারুল ইসলাম শামীম এবং বিআরডিবি রূপসা উপজেলার পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা তারেক ইকবাল আজিজ। এ সময় স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ, কৃষক প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।