
(২ মাস আগে) ১০ জুলাই ২০২৬, শুক্রবার, ১০:১৯ অপরাহ্ন
চুয়াডাঙ্গায় বিরামহীন বৃষ্টিতে জনজীবন চরম দুর্ভোগে পড়েছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) রাত ৩টা ৪০ মিনিট থেকে শুরু হওয়া ভারী বর্ষণে জেলার চারটি উপজেলা শহর ও পৌর এলাকার বিভিন্ন সড়ক জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। জলাবদ্ধতায় রাস্তাঘাট চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষ ও যানবাহন চলাচলে ব্যাপক ভোগান্তির মুখে পড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, বৃষ্টির পানি নোংরা ড্রেনের পানির সঙ্গে মিশে বিভিন্ন সড়কে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করেছে। তবে জলাবদ্ধতা নিরসনে উপজেলা প্রশাসন কিংবা পৌর কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। সড়কের দুই পাশে পানি জমে থাকায় যানবাহন চলাচলেও ব্যাঘাত ঘটছে।
এদিকে, জেলার দামুড়হুদা উপজেলার চিৎলা-গোবিন্দহুদা এলাকায় ফসলি জমি থেকে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালি উত্তোলনের কারণে দামুড়হুদা-কার্পাসডাঙ্গা সড়কের পাশের মাটি দুর্বল হয়ে পড়ে।
টানা বৃষ্টির পানির তোড়ে সড়কের একাংশ ভেঙে যাওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে যান চলাচল হুমকির মুখে পড়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে যে কোনো সময় বড় ধরনের ধস নেমে সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হতে পারে।
অন্যদিকে, জয়রামপুর কাঁঠালতলা বাজার থেকে কুমারীদহগামী সড়কের একটি অংশও ধসে গেছে। গ্রামবাসীদের দাবি, স্থানীয় মসজিদের নিকটবর্তী এলাকায় সড়কটির ক্ষতি হয়েছে, ফলে চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লাভলী ইয়াসমিন জানান, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ সময় উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, “সড়কের ভাঙন রোধ ও দ্রুত চলাচল স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কাজ চলছে।”
ভারী বর্ষণে জেলার বিভিন্ন এলাকার ফসলি জমিও পানিতে তলিয়ে গেছে। বৃষ্টির কারণে অনেক কর্মজীবী মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারেননি। শহরের সড়কগুলোতে মানুষের উপস্থিতি ছিল কম, একই সঙ্গে রিকশা, ইজিবাইক ও যাত্রীবাহী যানবাহনের চলাচলও ছিল সীমিত।
চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, শুক্রবার রাত ৩টা ৪০ মিনিট থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত ১৬৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি মৌসুমের অন্যতম সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত।