banglahour

পানি নামতেই বাঘাইছড়ি, বরকল ও ফারুয়ায় ভেসে উঠছে ধ্বংসস্তূপ: চরম কাদামাটি ও পলিস্তূপে বিপর্যস্ত জনজীবন

সারাদেশ | মিল্টন বাহাদুর। রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি।

(৩ মাস আগে) ১৪ জুলাই ২০২৬, মঙ্গলবার, ৩:৩৭ অপরাহ্ন


টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে লণ্ডভণ্ড হয়ে যাওয়া রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি, বরকল ও বিলাইছড়ি উপজেলার দুর্গম ফারুয়া ইউনিয়নের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করেছে। গত ৪৮ ঘণ্টায় নতুন করে বড় ধরনের কোনো বৃষ্টিপাত না হওয়ায় ফারুয়া ইউনিয়নের অধিকাংশ নিম্নাঞ্চল ও লোকালয় থেকে বন্যার পানি আস্তে আস্তে নেমে যেতে শুরু করেছে। তবে পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে বন্যার রেখে যাওয়া ক্ষতচিহ্ন।


জানা গেছে, পানি নেমে গেলেও দুর্গতদের দুর্ভোগ কমেনি, বরং নতুন রূপ নিয়েছে। বাঘাইছড়ি, বরকল ও ফারুয়া ইউনিয়ন থেকে পানি সরে যাওয়ার পর দেখা গেছে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ। বেশ কিছু কাঁচা ঘরবাড়ি পাহাড়ি ঢলে সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। 


বন্যার পানি নেমে গেলেও এলাকায় তীব্র খাদ্য, বিশুদ্ধ খাবার পানি এবং প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে। ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এবং রান্নার ব্যবস্থা না থাকায় বহু মানুষ এখনো চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
পাহাড়ি ঢলে রাইংখ্যং নদীর তীব্র স্রোতের কারণে প্রথম দিকে দুর্গম ফারুয়ায় নৌপথে পৌঁছানো অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। বর্তমানে পানি কমে আসায় স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও বিজিবি যৌথভাবে দুর্গম এলাকাগুলোতে ত্রাণ পৌঁছানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে সীমান্ত সড়ক ভেঙে যাওয়ায় এবং দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে সবখানে সমানভাবে সাহায্য পৌঁছাতে বেগ পেতে হচ্ছে।


উপজেলা প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষদের খাবারের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু করা হয়েছে। তবে বসতবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হওয়া পরিবারগুলোকে দ্রুত পুনর্বাসনের আওতায় না আনলে পার্বত্য এই অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিতে পারে। আর এর সাথে রয়েছে খাদ্যসংকট, বাসস্থান হারানো এবং কাদামাটির স্তূপে ঢেকে যাওয়া এইসব এলাকার মানুষদের কেবলই বেঁচে থাকার আর ঘুরে দাঁড়ানোর কঠিন সংগ্রাম।


জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফি জানান, পুরো জেলায় ৪৭টি আশ্রয় কেন্দ্রে এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৪৮৭ জন মানুষ এখনো আশ্রয় কেন্দ্রে রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর জরুরি ত্রাণ তহবিল থেকে ২০ লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। দুর্গত মানুষের সহায়তায় সরকারের পাশাপাশি এগিয়ে এসেছেন স্থানীয়রা। আর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
 

উপদেষ্টা সম্পাদকঃ হোসনে আরা বেগম
নির্বাহী সম্পাদকঃ মাইনুল ইসলাম
ফোন: +৮৮০১৬৭৪০৬২০২৩
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম
ফোন: +৮৮ ০১৭ ১২৭৯ ৮৪৪৯
অফিস: ৩৯২, ডি আই টি রোড (বাংলাদেশ টেলিভিশনের বিপরীতে),পশ্চিম রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।
যোগাযোগ: তাহিরুল ইসলাম, ০১৭৭৮০০৪৭০০ contact@banglahour.com
অফিসিয়াল মেইলঃ banglahour@gmail.com
banglahour
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল