
(২ ঘন্টা আগে) ২৭ জুলাই ২০২৬, সোমবার, ১:৫০ অপরাহ্ন
নওগাঁ জেলার বদলগাছী উপজেলার বালুভরা ইউনিয়নের ঢেকড়া কুমারপাড়া/ পালপাড়া গ্রামে গড়ে উঠেছে মৃৎশিল্প তৈরির কারখানা।
বাংলাদেশে মৃৎশিল্প একটি প্রাচীন ও গৌরবময় ঐতিহ্যের অংশ। এই শিল্প হাজার বছরের পুরনো এবং বাংলার গ্রামীণ সংস্কৃতির সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। প্রাচীন বাংলার মানুষ মৃৎশিল্পে পারদর্শী ছিল।
ব্রিটিশ আমলে পশ্চিমা ধাতব সামগ্রীর আগমনে মৃৎশিল্পের কদর কিছুটা কমে যায়। তবে গ্রামীণ জীবনে মাটির পাত্র ও প্রতিমার ব্যবহার তখনো বহুল প্রচলিত ছিল। স্বাধীনতার পর প্লাস্টিক, মেলামাইন ও স্টিলের জিনিসের আধিপত্যে মৃৎশিল্পের ব্যবহার ক্রমে কমে যেতে থাকে। যদিও শহরাঞ্চলে মেলার মাধ্যমে কিছুটা চাহিদা এখনো রয়েছে।
এই শিল্পের প্রধান উপকরণ হলো- এঁটেল মাটি, জ্বালানি কাঠ, শুকনা ঘাস, খড়, বালি।
এই উপকরণ ব্যবহার করে তৈরি হয়- কলসি, ফুলদানি, হাঁড়ি, টব, ডাইনিং আইটেম, ব্যাংক, শিশুদের খেলনা, ধর্মীয় প্রতিমা ইত্যাদি।
বর্তমানে বাংলাদেশের মৃৎশিল্প বিলুপ্তির পথে। প্লাস্টিক ও ধাতব পণ্যের চাপে কুমারপাড়াগুলোর কর্মব্যস্ততা কমে এসেছে। অনেক পরিবার পেশা পরিবর্তন করেছে, কারণ এই শিল্পে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। শহরে কিছু লোক এ পণ্যগুলো ঘর সাজানোর কাজে ব্যবহার করলেও, তা শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য যথেষ্ট নয়।
মৃৎশিল্প এক সময় গ্রামীণ অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ খাত ছিল। কুমার সম্প্রদায় এই শিল্পে জীবন নির্বাহ করতেন। ধর্মীয় রীতিনীতিতে মাটির প্রদীপ, প্রতিমা ও পাত্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার ছিল। কিন্তু আধুনিকতার ফলে এই পেশায় থাকা মানুষেরা আজ অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছেন।
তবে এখনো মৃৎশিল্পের পুনর্জাগরণের সম্ভাবনা রয়েছে। এজন্য প্রয়োজন- সরকারি উদ্যোগ ও সহায়তা, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার সহযোগিতা, চান কুমার পাড়ার মানুষেরা সহজ শর্তে ঋণ ও প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি ও ডিজাইনের উন্নয়ন, শিল্পকে ব্র্যান্ড হিসেবে তুলে ধরলেই এই শিল্পকে পুনর্জাগরণ করা সম্ভব বলে এখানকার স্থানীয় জনগন ও কারিগররা মনে করেন।