
(২ ঘন্টা আগে) ২৮ জুলাই ২০২৬, মঙ্গলবার, ১:২০ অপরাহ্ন
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় জমি-সংক্রান্ত একটি মামলার তদন্তকে কেন্দ্র করে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই ইদ্রিস আলীকে ঘিরে বাদী ও বিবাদীপক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ, অপপ্রচার এবং বিচারাধীন মামলার তদন্তে প্রভাব বিস্তারের অপচেষ্টার অভিযোগ তুলেছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) নাগেশ্বরী থানা গেট ও উপজেলা চত্বরে পৃথকভাবে এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। প্রথমে বিবাদীপক্ষ এসআই ইদ্রিস আলীর বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করে। পরে একই স্থানে বাদীপক্ষ প্রতিবাদ সমাবেশ করে বিবাদীপক্ষের অভিযোগকে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে।
জানা গেছে, উপজেলার কালীগঞ্জ ইউনিয়নের কুমরিয়ারপাড় (মাদাইখাল) গ্রামের মৃত খলিলের ছেলে হাফিজুল ইসলামের সঙ্গে প্রতিবেশী ইদ্রিস আলীর ছেলে এমদাদুল হক, আমিনুর রহমান এবং আবুল কাসেমের ছেলে শামছুল হকসহ কয়েকজনের দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। এ-সংক্রান্ত একটি মামলা বর্তমানে কুড়িগ্রামের আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
বাদীপক্ষের অভিযোগ, প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাদের প্রায় দুই একর জমিতে চাষাবাদে বাধা সৃষ্টি, চলাচলে প্রতিবন্ধকতা, মসজিদে নামাজ আদায়ে বাধা এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে।
তাদের দাবি, গত ২ মে বিরোধপূর্ণ জমি থেকে প্রতিপক্ষ প্রায় ৯০টি গাছ কেটে নেয় এবং পাটক্ষেতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে। এ ঘটনায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলা দায়েরের পর থেকেই অভিযুক্তরা মামলা প্রত্যাহারের জন্য বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।
বাদীপক্ষের ভাষ্য, মামলার তদন্তকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যেই অভিযুক্তরা তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই ইদ্রিস আলীর বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি কর্মসূচি পালন করেছে। তাদের দাবি, গাছ কাটার ঘটনার ভিডিও ফুটেজসহ প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংরক্ষিত রয়েছে এবং প্রয়োজনে তা তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ ও সাংবাদিকদের কাছে উপস্থাপন করা হবে।
নাগেশ্বরী থানা সূত্রে জানা গেছে, মামলার তদন্ত প্রতিবেদন গত মে মাসে আদালতে দাখিল করা হয়েছে। পরবর্তীতে গত ২৩ জুলাই বিবাদীপক্ষের চারজন আসামি আদালতে হাজির না হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। ওই পরোয়ানার ভিত্তিতে পুলিশ ২৫ জুলাই তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে এবং ২৬ জুলাই তাদের আদালতে সোপর্দ করে। পরে তারা আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান। জামিনে মুক্ত হওয়ার পরই তারা তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই ইদ্রিস আলীর বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন বলে জানিয়েছে বাদীপক্ষ।
এদিকে, গাছ কাটার ঘটনার ভিডিও ফুটেজসহ প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ এই প্রতিবেদকের কাছেও সংরক্ষিত রয়েছে। বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে উভয় পক্ষ।