
(৩ মাস আগে) ৩০ জুলাই ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ১১:৪১ পূর্বাহ্ন
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের উপ-সহকারী প্রকৌশলী অনুপম চক্রবর্তীর ৮ বছর বয়সী কন্যা আদরিতা চক্রবর্তী দীর্ঘ তিন বছর ধরে দূরারোগ্য সাইক্লিক ভমিটিং সিনড্রোম (Cyclic Vomiting Syndrome-CVS) রোগে ভুগছে। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পরও কাঙ্ক্ষিত উন্নতি না হওয়ায় পরিবারটি চরম হতাশা ও দুশ্চিন্তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
আদরিতার বাবা অনুপম চক্রবর্তী জানান, মাত্র পাঁচ বছর বয়সে তার মেয়ের এই জটিল রোগ ধরা পড়ে। রোগটির কারণে প্রতি সাত থেকে দশ দিন পরপর সে একটানা ৩০ থেকে ৩৫ বার পর্যন্ত বমি করে। অনেক সময় অতিরিক্ত বমির কারণে রক্তও বের হয়ে আসে। পরবর্তী কয়েকদিন প্রতিদিন ১২ থেকে ১৪ বার বমি হতে থাকে। এভাবে তিন থেকে চার দিন ধরে চলা এই সমস্যা মাসে দুই থেকে তিনবার দেখা দেয়। ফলে শিশুটি শারীরিকভাবে অত্যন্ত দুর্বল ও নিস্তেজ হয়ে পড়ে।
তিনি বলেন, প্রথমে দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলেও সন্তোষজনক ফল পাওয়া যায়নি। পরে সহকর্মীদের আন্তরিক সহযোগিতায় আদরিতাকে ভারতের খ্যাতনামা ভেলোর সিএমসি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানেও অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি না হওয়ায় হায়দ্রাবাদের এআইজি হাসপাতাল, কলকাতার অ্যাপোলো হাসপাতাল এবং মুকুন্দপুরের ভাগীরথীসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা করানো হয়। কিন্তু এখনো পর্যন্ত শিশুটির অবস্থার কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন হয়নি।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আদরিতার দীর্ঘমেয়াদি ও ধারাবাহিক চিকিৎসা প্রয়োজন। তবে বিদেশে চিকিৎসার জন্য বারবার ছুটি গ্রহণ, বিভিন্ন প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা এবং বিপুল চিকিৎসা ব্যয় বহন করা পরিবারের জন্য ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।
অনুপম চক্রবর্তী বলেন, চাকরির সুবাদে কিছুটা চিকিৎসা ব্যয় সামাল দিতে পারলেও দীর্ঘ তিন বছরের চিকিৎসা ব্যয় তার পরিবারের ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে অসুস্থ মেয়েকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিয়ে যাওয়া এবং তার সার্বক্ষণিক দেখভালের বিষয়টিও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, অতীতের মতো খুলনা সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে তাদের পাশে দাঁড়াবেন এবং কোমলমতি শিশুটির উন্নত চিকিৎসার পথ সুগম করতে সহযোগিতা করবেন।
বর্তমানে আদরিতার পরিবার তার সুস্থতার জন্য সবার দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেছে।