banglahour

“কুড়িগ্রামে ডিসি-ত্রাণ কর্মকর্তার অন্তর্কোন্দল, ফেরত গেল দুঃস্থদের কম্বল ক্রয়ের ৪১ লাখ টাকা”

সারাদেশ | রাশিদুল ইসলাম রাশেদ। কুড়িগ্রাম।

(২ ঘন্টা আগে) ১ আগস্ট ২০২৬, শনিবার, ৫:৩০ অপরাহ্ন


দেশের অন্যতম শীতপ্রবণ ও দারিদ্র্যপীড়িত জেলা কুড়িগ্রাম। প্রতিবছর শীতের তীব্রতায় এ জেলার চরাঞ্চলসহ হাজারো নিম্নআয়ের পরিবার সরকারি কম্বলের আশায় দিন গোনে। অথচ সেই জেলার জন্য বরাদ্দ দেওয়া ৪১ লাখ ১৫ হাজার টাকার কম্বল কেনার অর্থ শেষ পর্যন্ত খরচই করা হয়নি। প্রশাসনিক টানাপোড়েন, সিদ্ধান্তহীনতা ও সমন্বয়হীনতার কারণে পুরো অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত গেছে। ফলে একদিকে শীতার্ত মানুষ বঞ্চিত হয়েছে, অন্যদিকে প্রশ্নের মুখে পড়েছে জেলা প্রশাসনের জবাবদিহিতা।

অনুসন্ধানে পাওয়া সরকারি নথি বলছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসকের অনুকূলে ৪০ লাখ ১৫ হাজার টাকা কম্বল ক্রয়ের জন্য বরাদ্দ দেয়। পরে ৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে আরেক আদেশে ওই বরাদ্দ জেলা প্রশাসকের পরিবর্তে ত্রাণ কর্মকর্তার অনুকূলে দেওয়া হয়। তবে দায়িত্ব পরিবর্তনের পরও সময়মতো ক্রয় কার্যক্রম এগোয়নি।

সরকারি নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা ছিল, কম্বল ক্রয়ে পিপিএ-২০০৬, পিপিআর-২০০৮ এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা-২০২৫ অনুসরণ করে ই-জিপি পদ্ধতিতে ক্রয় সম্পন্ন করতে হবে। ১৪ জানুয়ারি বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনা ই-জিপি পোর্টালে প্রকাশও করা হয়। কিন্তু এরপর কম্বল ক্রয়ের পদ্ধতি নিয়ে জটিলতা, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তহীনতা ও দীর্ঘসূত্রতায় পুরো কার্যক্রম থমকে যায়।

পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে যুক্তি দেওয়া হয়, কুড়িগ্রামে শীতের তীব্রতা কমে এসেছে। কম্বল কিনে বিতরণ করতে আরও অন্তত ১৫ দিন সময় লাগবে। তখন আবহাওয়া উষ্ণ হয়ে যাওয়ায় বিতরণ যৌক্তিক হবে না। এমনকি দীর্ঘদিন গুদামে রাখলে ইঁদুর, উইপোকা ও ছত্রাকের কারণে কম্বল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করা হয়।

কিন্তু স্থানীয়দের প্রশ্ন, যখন কুড়িগ্রামের মানুষ কনকনে শীতে কষ্টে রাত কাটাচ্ছিল, তখন কেন সময়মতো কম্বল কেনা হলো না? কেন প্রশাসনের সিদ্ধান্তহীনতার দায় বইতে হলো অসহায় মানুষকে?

প্রতি বছর দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রার তালিকায় থাকা কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলে হাজার হাজার মানুষ এখনো খড়, প্লাস্টিক কিংবা জরাজীর্ণ টিনের ঘরে শীত পার করেন। অনেক পরিবার সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। অথচ সেই জেলায় বরাদ্দের পুরো অর্থ ফেরত যাওয়াকে স্থানীয়রা শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতাই নয়, বরং শীতার্ত মানুষের অধিকার হরণের ঘটনা হিসেবে দেখছেন।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, কম্বল কেনার অর্থ ব্যয় নিয়ে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ এবং তৎকালীন জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আব্দুল মতিনের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়। সেই টানাপোড়েনের জেরেই সময় গড়াতে থাকে। একপর্যায়ে শীত মৌসুম প্রায় শেষ হয়ে গেলে বরাদ্দের অর্থ আর খরচ করা হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন,
“কম্বল কেনা নিয়ে ডিসি স্যার আর ত্রাণ কর্মকর্তার মধ্যে অন্তর্কোন্দল চলছিল। ডিসি স্যার তাঁর মত করে টাকাটা খরচ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এতে আপত্তি জানান ত্রাণ কর্মকর্তা। দু’জনের মনোমালিন্যের কারণেই শেষ পর্যন্ত কম্বলের টাকাটা ফেরত চলে যায়।”

বর্তমান জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এটিএম বেনজির রহমান বলেন, “আমি নতুন যোগদান করেছি। কী কারণে কম্বল ক্রয়ের টাকা ফেরত গেছে, তা আমার জানা নেই।

এ বিষয়ে তৎকালীন জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আব্দুল মতিনের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। খুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথকে একাধিকবার ফোন দিলেন তিনি ফোন  রিসিভ করের নাই।

সুশাসনকর্মীরা বলছেন, সরকারি অর্থ ফেরত যাওয়ার ঘটনা শুধু একটি প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়; এটি পরিকল্পনাহীনতা, সমন্বয়হীনতা এবং দায়িত্ব পালনে অদক্ষতারও বড় উদাহরণ। তাদের মতে, সময়মতো সিদ্ধান্ত ও কার্যকর তদারকি থাকলে হাজারো অসহায় মানুষ অন্তত একটি শীত উষ্ণভাবে পার করতে পারতেন। কিন্তু প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ বিরোধের বলি হয়ে শেষ পর্যন্ত বঞ্চিত হয়েছেন সেই মানুষগুলোই, যাদের জন্য রাষ্ট্র এই অর্থ বরাদ্দ করেছিল।

উপদেষ্টা সম্পাদকঃ হোসনে আরা বেগম
নির্বাহী সম্পাদকঃ মাইনুল ইসলাম
ফোন: +৮৮০১৬৭৪০৬২০২৩
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম
ফোন: +৮৮ ০১৭ ১২৭৯ ৮৪৪৯
অফিস: ৩৯২, ডি আই টি রোড (বাংলাদেশ টেলিভিশনের বিপরীতে),পশ্চিম রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।
যোগাযোগ: তাহিরুল ইসলাম, ০১৭৭৮০০৪৭০০ contact@banglahour.com
অফিসিয়াল মেইলঃ banglahour@gmail.com
banglahour
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল